ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

ব্লগে আমার দ্বিতীয় লেখাতেই রাজনীতির কোন বিষয়ে লেখার ইচ্ছা ছিলোনা, কিন্তু ইলিয়াস আলীকে কেন্দ্র করে ইদানিংকার কিছু ঘটনা মনের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে তাই লিখতে বসলাম।

প্রধান বিরোধী দল অনেক দিন ধরেই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের চেষ্টা করে আসছিলো। তবে ইলিয়াস আলীর ইস্যুতে হঠাৎ করেই আন্দোলনের গতিটা অনেকখানি জোরালো হয়। ডাকা হয় হরতাল। হরতালকে কেন্দ্র করে হরতালের আগে এবং হরতালের সময় একাধিক সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ প্রান হারায়। এইচ এস সি পরিক্ষার্থীদের পরিক্ষা স্থগিত করা হয়। জনগনের দুর্ভোগতো ছিলোই। বিরোধী দলের বক্তব্য, এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। কি চমৎকার এবং কত সহজ কথায় দায়কে ঝেরে ফেলা। (এই পর্যন্ত পড়ে কারো কারো মনে হতে পারে আমার এই লেখাটি বিরোধী দলের বিপক্ষে, তবে বাকিটা পড়লেই বুঝতে পারবেন আমার উদ্দেশ্য তা নয়। এখানে কে সরকারি দল কে বিরোধী দল এটাও মূল বিষয় নয়। ) হরতালে মানুষ মারার রীতি যেমন পুরনো তেমনি রাজনীতিবিদদের দায় ঝেরে ফেলার রীতিও পুরোনো। সরকারী দলের কাছে শুনবো, সমাধানের চেষ্টা চলছে, আমরা আন্তরিক। বিরোধী দলের কাছে শুনবো, আমরা বাধ্য হয়েই হরতাল দিচ্ছি। এসব কথা আমরা অনেকবার শুনেছি। জানিনা আরো কতদিন এমনটাই শুনতে হবে। ইদনিংকার ঘটে চলা এসব বিষয় নিয়ে আমার মনে কিছু প্রশ্ন আছে, এমন ধরনের প্রশ্ন যে মনে আগে আসেনি তা নয়, এবার সুযোগ হলো তাই তুলে ধরলাম-

১) একজন দলীয় নেতার নিখোঁজের ইসুটি কি একজন খেটে খাওয়া মানুষের জীবনের চাইতেও অনেক বেশী মূল্যবান।
২) ইলিয়াস আলীর নিখোঁজে তার পরিবারে যে হাহাকার, হরতালে প্রান হারানো ব্যক্তির পরিবারে হাহাকার কি তার চাইতে কোন অংশে কম?
৩) সংবাদপত্রে জানলাম, ইলিয়াস আলীর মেয়ে হিলারী ক্লিন্টনকে চিঠি দিয়েছে (নাকি দেয়ানো হয়েছে??), এই ইসুতে হিলারীর কাছে চিঠি পৌছানো দেশের জন্য কি মঙ্গলজনক হলো? এতে কার লাভ হলো? কি লাভ হলো?
৪) যদি হরতালে প্রান হারানো ব্যক্তির পরিবারের কেউ হিলারীর কাছে চিঠি দিতে চাইতেন তাকে কি এভাবে সুযোগ দেয়া হতো?
৫) কাউকে গুম করা যেমন আপরাধ, হরতালে পিকেটিং করে মানুষ হত্যা কি অরো বড় অপরাধ নয়? এর দায় কাদের?
৬) পরীক্ষার দিন গুলিতে লাগাতার হরতাল কর্মসূচি কি অত্যাবশ্যক ছিলো?
৭) হরতালের দুই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতাদের জামিন আবেদনের প্রসঙ্গে আজকের পত্রিকার খবর – জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী পুলিশ প্রতিবেদন হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জামিনের আদেশ দেন। কিন্তু বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার আবেদনকারীদের সাত দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জমিনের আবেদন করতে বলেন। এই সময়ে বিএনপি নেতাদের হয়রানি না করার জন্যও আদেশ দেয় আদালত।
মানণীয় আদালত কি দয়াকরে জনগনকে হয়রানি না করার কোন আদেশ দিবেন? (ইতিপূর্বে জনগনের সার্থে আদালত যেমন বিভিন্ন আদেশ দিয়েছেন।)
৮) এভাবে মানুষ নিখোঁজ হতে থাকলে সরকার কি দায় এড়াতে পারবেন?
৯) ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের বিষয়টির কি আদৌ কোন সমাধান হবে নাকি আমরা সাধারন জনগন বর্তমান সরকারের বাকি মেয়াদের সময়খানি এমনি ভাবেই ভোগান্তির মধ্যেই দিন কাটাবো?
১০) হরতাল ছাড়া কি আন্দোলন সম্ভব নয়? যে দেশে হরতাল নেই সে দেশে কি জোড়ালো আন্দোলন হচ্ছে না?
১১) হরতাল যদি গনতান্ত্রিক অধিকার হয়ে থাকে, দেশ ও জনগনের জীবনের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কি গনতান্ত্রিক দল গুলোর দ্বায়িত্ব নয়?

হয়তো আরো কিছু প্রশ্ন ছিল কিন্তু আজ এ পর্যন্তই থাক। আসলে, কেউ নিখোঁজ হওয়া কিংবা গুম হওয়া কখোনই আমাদের কাম্য নয়। “গুম” বিষয়টি যদি চলতে থাকে এটি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে সবার জন্যই। এটি অবহেলা করবার যেমন সুযোগ নেই তেমনি একে ইস্যু করে ফায়দা হাসিল করবার কোন চেষ্টা হলেও তা হবে নির্লজ্জতা। দেশের একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে সরকারের কাছে প্রত্যাশা, এমন একটি ভয়ঙ্কর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সরকার দ্বায়িত্বের সাথে সমাধান করবেন। “গুম” বিষয়টি নিয়ে দেশবাশীকে আর ভাবতে না হয় এমন ব্যবস্থা নিবেন। আর বিরোধী দলের কাছে প্রত্যাশা, তারা একটি সমস্যার সমাধান করতে যেয়ে কোটি মানুষের জীবনে সমস্যা বয়ে আনবেন না। সমস্যা সমাধানের সঠিক পথেই যেন অমরা তাদের দেখতে পাই।
যেহেতু সরকারী দল আর বিরোধী দল দু`টিই নির্ধারন হয় জনগনের ভোটে, তাই জনগনকে অবহেলা করা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। তাই জনগনকে গুরুত্ব দিয়ে জনগনের চাওয়াকে অনুভব করে সত্যিকার অর্থেই জনগনের জন্য রাজনিতীবিদরা কাজ করবেন এমন আশাবাদই রইলো।