ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

রাস্তা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা ছিল কম। কারণ আমার বেশীর ভাগ সময় কেটেছে গ্রামে। এখানে বলে নেয়া ভালো আমার নিজ জেলা ঝিনাইদহ, গ্রামঃসাগান্না। গ্রামে সবচেয়ে সহজতর বাহন হলো সাইকেল, অবশ্য আমাদের সময়ে ছিল। এখন অবশ্য তথাকথিত ডিজিটাল যুগে এসেছে মোটর বাইক। আমি বা আমরা সবাই এ পাড়া থেকে ও পাড়া, এ গ্রাম থেকে ও গ্রাম গিয়েছি সাইকেলে চড়ে। এমন কি আমার বাড়ী থেকে জেলা শহর ১১ কিলোমিটার। বাসে গেলে ১৫ মিনিট আর সাইকেলে গেলে ৩০-৩৫ মিনিট। আমরা জেলা শহরেও প্রায় সময় যেতাম সাইকেলে চড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে যখন বেঁচে থাকার আশায় রাজধানী (রাজধানী বলতে কষ্ট হয়) ঢাকায় এলাম, একি! বাবা দেখে মনে হলো এটা কি রাজধানী? প্রথমে ছিলাম আজিমপুরে একটা মেসে। আজিমপুর থেকে মতিঝিল অথবা কারওয়ান বাজার বা উত্তরা যেতে ১ ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টাও লেগে যেত। যেখানে আমার মতে ৩০ মিনিটের বেশী লাগার কথা না। এমন অনেক দিন গেছে মতিঝিল থেকে বা আসাদগেট থেকে হেটেই আজিমপুরে এসেছি।

আমি একটি প্রাইভেট ব্যাংকে জব করি। ২০১০ সালে অফিস মতিঝিল থেকে গুলশানে সিফ্ট হলো। প্রথম কয়েক মাস আজিপুর থেকেই গুলশান আসা যাওয়া করতাম। মনে হতো ঢাকা থেকে কুমিল্লায় যেয়ে অফিস করছি। ফলশ্রুতিতে বাসা আজিমপুর থেকে গুলশানের কাছাকাছি নেওয়ার পরিকল্পনা করলাম। ঠিক হলো বনশ্রীতে বাসা নেওয়ার। মনে মনে খুব ভালো লাগলো এই ভেবে অন্তত বাসে তো আর বসে থাকতে হবে না। প্রথম কিছুদিন ভালোই লাগলো। বিরক্তিটা চরমে উঠতে শুরু করলো ২০১২ সালের প্রথম থেকে। আগে যেখানে বনশ্রী থেকে গুলশান আসতে সময় লাগতো ৩০ মিনিট এখর সেখানে বনশ্রী থেকে রামপুরা ব্রিজ আসতে সময় রাগে ৩০ মিনিটের উপর। এমন অনেক দিন গেছে পুরো রাস্তা হেটে অফিসে এসেছি এবং বাসায় গেছি। এর মধ্যে এখন আবার চালু হবে হাতিরঝিল প্রকল্পের রাস্তা। আমরা অবশ্যই হাতিরঝিল প্রকল্পের রাস্তাটি চাই তবে একটা প্লান মাফিক। এটা করা যেতে পারে গুলমান লেকের পাশ দিয়ে একটা রাস্তা বের করে এমেরিকান এম্বেসি পর্যন্ত নেয়া যেতে পারে। দুটি রাস্তার প্রত্যেকটি একমুখি চলাচলের জন্য রাখা যেতে পারে। আর ঢাকা শহরের কিছু রাস্তা টোল সিস্টেম করা যেতে পারে। আমার মনে হয় যাদের ব্যাক্তিগত গাড়ি আছে তারা টোল দিয়ে হলেও আগে এবং কম সময়ে যেতে চাইবেন।