ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

বর্তমান বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত গতিতে । আর এ এগিয়ে যাওয়ায় তারাই এগিয়ে থাকছে যারা জ্ঞান বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব দক্ষতা বা ক্ষমতা দেখাতে পেরেছে। আবার এর পেছনে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে আজকের তরুন সমাজ। আর এ বর্তমান যুগকে বলা হচ্ছে তরুন সমাজের যুগ। আবার এ তরুন সমাজ নির্মিত হচ্ছে বিভিন্ন উপাদান কে সামনে রেখে। যাদের হাত ধরেই নির্মিত হবে আগামী সকাল। আসবে ভোরের আলো । আগামীর পথচলা হবে তাদের হাত ধরেই। এগিয়ে যাবে এ বিশ্ব আরো সামনের দিকে অনেক বেশী গতিতে। সাজাবে আগামীর পৃথিবী। রাঙিয়ে তুলবে আমাদের চারপাশ। যেখানে থাকবে না কোন সহিংসতা,থাকবে শান্তি। পারমানবিক বোমা থাকলেও কেউ তা ব্যবহার করবার ইচ্চা পোষন করবে না নিজের থেকেই। টেকনোলজি হবে সহজ থেকে সহজতর। সারা বিশ্বকে মনে হবে একটি গ্রামের মতো। কিন্তু কিভাবে এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখা সম্ভব আমাদের পক্ষে। যেখানে প্রতিনিয়ত মানবতা হারিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাশীলদের হাতে, নিষ্পেষিত হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা। মিলিয়ন মিয়িলন টাকা খরচ করা হচ্ছে শুধু মাত্র মানুষ হত্যার জন্য। টেকনোলজির সাহায্যে যেখানে আজ ঘরে বসেই শত্রুকে আঘাত হানা যাচেছ।

তবে আশার কথা যেটি তা হচ্ছে আমাদের এ সময়কার তরুন সমাজ অনেক বেশী সচেতন। কিভাবে তরুন সমাজ এ রকম ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে থেকেও একটি সুন্দর বিশ্ব উপহার দিবে সেটিই তুলে নিয়ে আসা হবে এ নিবন্ধে।

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান হলো টেকনোলজি। যেখানে ইন্টারনেট.ওয়াইফাই,মোবাইল,ফেসবুক,মেইল,টুইটার,গুগল বা ইয়াহু খুব বেশী ব্যবহৃত উপাদান গুলোর মধ্যে অন্যতম। আজকের তথ্যপ্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কার পাল্টে দিচ্ছে পৃথিবীর প্রেক্ষাপট। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছে এমন একটি বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ সূত্র ইন্টারনেট। আর এ ইন্টারনেট আজকে বিশ্বকে একটি মাউসের মাধ্যমে আমাদের হাতের মুঠোয় পুরে দিয়েছে। তাই ইচ্ছে হলেই চাপ দিয়ে পৃথিবী আমরা এক মুহূর্তের মধ্যে ঘুরে আসতে পারি। জয় করতে পারি সূর্যোদয়ের দেশ জাপান থেকে শুরু করে সূর্যাস্তের দেশ নরওয়ে পর্যন্ত। পৃথিবীর সবোর্চ্চ চূড়া হিমালয় থেকে শুরু করে গভীর মহা সাগরের তলদেশ পর্যন্ত। এ সমব কিছুই সম্ভব হয়েছে ইন্টারনেটের ফলে। আজকের হাতের মুঠোর মাউস আগামী দিনে গয়তো একটি ইশারায় পরিনত হবে। তখন আর কষ্ট করে মাউস চাপতে হবে না।
প্রতিযোগিতা প্রবণ ও পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালে মানুষের সমাজ, অর্থনীতি বা রাজনীতি কিভাবে প্রভাবিত হবে এ বিষয়টি জানাতে বিবিসির সূত্র থেকে পাওয়া বিশ্লেষণে বিশ্বের ৭৪২ জন সংগঠক, গবেষক ও ব্যবহারকারিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রশ্ন করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে বিশ্ব একটি সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের মধ্যে আসবে। আর মানুষ নিয়ন্ত্রণ করবে প্রযুক্তি না প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করবে মানুষকে এমন প্রশ্নে অনেকেই মনে করছেন এখনকার মতোই মানুষের হাতে থাকবে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে অনেকেই জানিয়েছেন, প্রযুক্তি মেশিন তৈরি করছে, আর মেশিন তৈরি করছে শৃঙ্খলা। এই শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে একসময় মানুষ নিয়ন্ত্রিত হতে পারে প্রযুক্তির দ্বারা। আবার অনেকে জানাচ্ছেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ যে শক্তি অর্জন করছে একদা সেই শক্তির অপব্যবহার হওয়ার সুযোগ মানুষেরই হাতে থেকে যাচ্ছে। অনেকেই একমত হয়েছেন যে, যারা অনলাইনের সঙ্গে শৈশব থেকে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম ভার্চুয়াল বিশ্বের আকর্ষণে পড়ে দিনের অধিক সময় এখানে ব্যয় করবেন। ফলে বিভিন্ন বিষয়ে সুবিধাদির কারণে এক প্রকার নেশাগ্রস্ততা তৈরি হবে বলে অনেকে মনে করছেন। বিবিসির এ প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে কয়েক বছরের মধ্যে ইন্টারনেটের সুবাদে ইংরেজির ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। যার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। তখন ইন্টারনেটই হবে একমাত্র ভাষা ও সংস্কৃতির মিলন ক্ষেত্র, না হলে এই বিশ্ব নেটওয়ার্ক বিপন্ন হবে বলে অনেকে মত দিয়েছেন।

এদের মধ্যে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক নিভরতা বেড়ে যাবে বর্তমান সময়ের ন্যায়। এর আদলে ইতিমধ্যে অনেক সাইট তৈরি করছেন ওয়েব ডেভেলপাররা। ওয়েব প্রোগ্রাম,অ্যাপ্লিকেশন,গেমস ছাড়াও ফেসবুকের আইডিয়া নিভর অনেক সাইটের দেখা মেলে ইন্টারনেটে। ফেসবুক ব্যবহারকে আরো সহজ এবং মজাদার করতেই এসব ওয়েবসাইটগুলো তৈরি হয়। যেখানে ফেসবুকে এখন গেম,ভিডিও অডিও চ্যাটিং থেকে শুরু করে ইতিমধ্যে নানাবিধ সুবিধা দিয়ে রেখেছে। যার থেকে আমরা ধারনা করতে পারি আগামীর বিশ্ব্ এ ফেসবুকের আদলে বা এর চাইথেও অনেক ভালো ভাবে একটি সাইট গড়ে উঠবে যাতে কিনা আমাদের সকলের মনের ভাব আপনা আপনি প্রকাশ হয়ে যাবে।

এছাড়া আরেকটি গবেষনায় আগামী বিশ্বে বিমানের যে চেহারাটা তুলে ধরছে সেটা হলো ওই সময়ে বিমানের ভেতরে থাকবে ভার্চুয়াল গলফ খেলার ব্যবস্থা, নিঃশ্বাসের সঙ্গে ভিটামিন সমৃদ্ধ বাতাস টেনে নেবে যাত্রীরা। এই বিমানে প্রচলিত কেবিনের পরিবর্তে থাকবে বিশেষ প্যাসেঞ্জার জোন। এর মধ্যে একটি জোন হলো ইন্টারেকটিভ জোন। এই জোনে ভার্চুয়াল প্রজেকশনের মাধ্যমে যাত্রীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম বেছে নিতে পারবে।

সুতরাং বলতে পারি আগামীর ভবিষৎ নির্মিত হবে প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে। আর এ প্রযুক্তির বিকাশে আগামীর ভবিষৎ হবে সুন্দর ও নির্মল।