ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ হত্যার ঘটনায় এখনও অধিকাংশ আসামী কে আটক করা হয়নি। ইতোমধ্যে মামলার চার্জশীট দেয়া হয়েছে। এদিকে হত্যা মামলার আসামীরা এখনও আটক না হওয়ায় পুলিশের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জুবায়েরের পরিবার এবং তার শিক্ষক-সহপাঠীরা। জানযায়,গত ৮জানুয়ারী ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ গ্রপের কর্মী দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পরদিন ৯ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান জুবায়ের। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান বাদী হয়ে ঐ দিনই আশুলিয়া থানায় ১৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটে জুবায়ের হত্যাকারী ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে তদন্ত— কমিটির রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতে সাত ছাত্রকে আজীবন এবং ছয় ছাত্রকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং তাদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। আজীবন বহিষ্কৃতদের মধ্যে খন্দকার আশিকুল ইসলাম (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ), মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু (দর্শন বিভাগ), খান মোহাম্মদ রইস (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ), মো. জাহিদ হাসান (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ), ইসতিয়াক মেহবুব অর“প (দর্শন বিভাগ), মাহবুব আকরাম (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ), নাজমুস সাকিব তপু (প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ) এবং দুই বছরের জন্য বহিস্কৃত মো. মাজহার“ল ইসলাম (ইতিহাস বিভাগ), মো. কামর“জ্জামান সোহাগ (দর্শন বিভাগ), মো. নাজমুল হুসেইন প¬¬¬াবন (লোক প্রশাসন বিভাগ), শফিউল আলম সেতু (পরিসংখ্যান বিভাগ), অভিনন্দন কুন্ডু (পরিসংখ্যান বিভাগ), মো. মাহমুদুল হাসান মাসুদ (ইতিহাস)।

এদের মধ্যে চারজন ছাড়া বাকী নয়জন কে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। চারজনের মধ্যে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের খন্দকার আশিকুল ইসলাম কে ৯ জানুয়ারী মীর মশাররফ হোসেন হল থেকে,সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম কে শহীদ রফিক জব্বার হলের সামনে থেকে ১২ জানুয়ারি, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের নাজমুস সাকিব তপুকে ১৪ জানুয়ারি তার নিজ বিভাগের সামনে থেকে এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের জাহিদ হাসান কে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে ২২ জানুয়ারি আটক করে পুলিশ। মামলার বাকী নয়জন কে কেন এখনও আটক করা হয়নি জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার এস আই মামলার তদন্তকারী কর্মকতা শাহীন পারভেজ জানান,আসামীদের আটক করতে আমাদের তৎপরতা চলছে। আসামীদের ধরতে তাদের গ্রামের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে জুবায়ের হত্যা মামলার আসামীরা এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। জুবায়েরের বড় ভাই লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়েল আইনের লেকচারার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,জুবায়েরের খুনীদের এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ । প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্টের সাথে পুলিশের তদন্ত রির্পোটে খুব বেশী তফাৎ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে কয়জন কে বহিষ্কার করেছিল তাদের নামেই চার্জশীট দেয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশের তদন্তে নতুন কিছু আসে নাই। আমরা আশা করেছিলাম পুলিশের তদন্তে আরো নাম আসবে।

ইংরেজী বিভাগের সভাপতি মাসরুর শাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিচার করলে এটা আমাদেও ক্যাম্পাস না পুরো দেশের সমস্যা বলা যায়। পুলিশ চাইলেই আসামীদের ধরতে পারে। কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তির কারনে এখনও সব আসামীকে আটক করা হয়নি তা আমরা বুঝতে পারছিনা। আমরা প্রশাসনের সাথে আবারও আলোচনায় বসব প্রশাসন থেকে যদি কোন উদ্যেগ না নেয়া হয় তাহলে আমাদের ছাত্রের বিচার দাবিতে আবারও আন্দোলন করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জুবায়েরের হত্যাকারীদের বিচারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সব্বোর্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ জন্য তদন্ত করে ১৩ জন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।