ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। মোবাইল,কম্পিউটার,ল্যাপটপ,ক্যামেরা,ম্যানিব্যাগ,জুতা,শাট পান্ট,লুঙ্গি কিছই বাদ যায়না এ চুরির তালিকা থেকে।

গত সোমবার বিশ্বাবিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলে চুরি করে পালানোর সময় ধরা পরে এক চোর। পরনে জিন্সের প্যান্ট,দামি টি শার্ট পায়ে দামী ব্রান্ডের জুতা মাথায় ক্যাপ দেখে বোঝার কোন উপায় নেই। সিকিউরিটি গার্ডরাও ভুল করে বেশ ভূষন দেখে। তাদের বিভ্রান্ত করেই চোখের সামনে দিয়ে এভাবে হলে ঢুকে আবার সহজেই বের হয়ে যায়। আবার কথা-বার্তা বা চলনে বলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মতোই। গত ৫ এপ্রিল সকালে ঐ হলেরই বি ব্লক থেকে ইংরেজী বিভাগের এক শিক্ষার্থীর একটি ল্যাপটপ,ক্যামরো সহ প্রায় ৭৫ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়ে যায়। এছাড়া জানুয়ারী মাসে এ ব্লকের একটি রুম থেকে মোবাইল চুরি হয়। ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় নিরাপত্তা না থাকলে কোথায় পাওয়া যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলে গত দুই মাসে বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ ও মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ হলের কমন রুম থেকে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের মোবাইল চুরি হয়।
এছাড়া শহীদ রফিক জব্বার হলে গত জানুয়ারি মাসে হারায় একটি ল্যাপটপ। মওলানা ভাসানী বা আফম কামাল উদ্দীন হলের চিত্র ও প্রায় একই। গত মঙ্গলবার ভাসানী হলের নিচতলায় গনরুম থেকে দিনের বেলা চুরি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর একটি ল্যাপটপ। এছাড়া গত দেড় মাসে ১১৪ এবং ১২০ নং গনরুম থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইল চুরি যায়।

আল-বেরুনী হলে মূল ভবনে বাইরে কোন প্রাচীর না থাকায় অচেনা মানুষ খুব সহজেই ঢুকে পড়ে হলে। চুরি হয়ে যায় পরিধেয় বস্ত্রসহ মূল্যবান জিনিস পত্র। আলবেরুনী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তানভীর জানান, হলে বাইরে এবং রুমের ভিতরে কোন নিরাপত্তা বোধ করিনা।

এতো গেলো ছাত্রদের হলের অবস্থা। ছাত্রীদের হলে চুরির বিষয়টা আরও জটিল। ছাত্রী হলগুলোতে আবার মহিলা চোরের উপদ্রব। এখানে মোবাইল বা ল্যাপটপ চুরির ঘটনা নিয়মিত না ঘটলেও কাপড় বা জুতা চুরির ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। জাহানারা ইমাম হলের আবাসিক ছাত্রী জানান,সিকিউরিটি গার্ড থাকতে হলে চুরির ঘটনা কিভাবে ঘটে তা বোধগম্য নয়। ক্যাম্পাসে চুরির তালিকায় অন্যতম একটি বাই সাইকেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে জিনিস পত্র হারানোর পেছনে ক্যাম্পাসে মাদকের ব্যাপক প্রসার এবং বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতকেই দায়ি করেছে শিক্ষার্থীরা। চোরদের অধিকাংশই মাদাকাসক্ত এবং বহিরাগত। নেশার টাকা জোগাড় করতেই এ ধরনের চুরি করে থাকে তারা। এছাড়া রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এসব চুরির সাথে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। অর্থনীতি বিভাগের রাকিবুল জানান, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা সম্ভব নয়। আবার তাদের ছত্রছায়াতেই মাদকের প্রসার ঘটে।