ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

হাল আমলে হলিউড, বলিউড সবখানে লক্ষ্য করে দেখেছি যেকোনো মুভি প্রজেক্ট শুরু করার আগেই তা হিট করার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি করে লাইমলাইটে চলে আসা। ঠিক তেমনি দেশের অন্যতম তথাকথিত জনপ্রিয় প্রজেক্ট “পদ্মা সেতু” হিট করার লক্ষ্যেই হোক আর যে করনেই হোক ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত ভাবে তৈরি বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। বেশ খানিকটা বিরতির পর যথারীতি “পদ্মা সেতু” প্রকল্প হবু সুপার হিট মুভির মত আবার পত্র পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। ছবির অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক “আবুল ” বরাবরের মতই আলোচনার শীর্ষে অবস্থান করছেন। সেই সাথে আলোচনায আসছে এই মুভির প্রযোজক কাম ভিলেন বিশ্ব মাতবর “বিশ্ব ব্যাংক”, তার চ্যালা চামুণ্ডা এডিবি, যাইকা, আইডিবি..এবং অবশ্যই লাস্যময়ী সুন্দরী কানাডিয়ান নায়িকা “এসএনসি-লাভালিন”। তবে এই মুভিতে মালেয়াশিয়া, চায়না এমনকি কাতারের জনপ্রিয় কিছু সাইড নায়ক-নায়িকাও আছেন। দিকে দিকে নাম ঠিক না হওয়া এই মুভির কাহিনী এবং এর কলাকুশলীদের জয়যাত্রার জয়গান ছড়িয়ে পড়েছে।

পাঠক চলুন এক ঝলকে এই মুভি নির্মাণের আদি কথা, হঠাত্ শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার মর্ম কথা এবং এজন্য সংশ্লিষ্ট তারকা কলাকুশলীদের মনের ব্যথার উপর খুবই সংক্ষেপে একঝলক দৃষ্টিপাত করি।

আদি কথা

পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। স্বৈরাচার এরশাদ থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের মশাল হাতে যে সরকারই এসেছে এই সেতু নির্মাণের কথা বলে জনগণের কাছে অনেক আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছে। অবশেষে বঙ্গবন্ধু কন্যা তার দেয় নির্বাচনী ওয়াদা পূরণে এই সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। 6,150 মিটার দীর্ঘ এবং 21.10 মিটার প্রসস্থ সেতুটি 2011 সালে নির্মাণের ঘোষণা দেয়া হয় এবং 2013 থেকে সর্বোচ্চ 2015 সালের মধ্যে এর সমাপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়। সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাঙ্ক এর সাথে অন্যান্য দাতা সংস্থা অর্থায়নে এগিয়ে আসে। অর্থ দিয়ে কে কত লাভ করবে সে নিয়ে পাঠক বিস্তর আলোচনা অলরেডি হয়েছে।

কলাকুশলী

প্রজেক্ট এর নায়ক আবুল হোসেন তার পরামর্শক (নায়িকা) নিয়োগে যথেষ্ট মুনশিয়ানার পরিচয় দেন। তার পছন্দনীয় কানাডিয়ান নায়িকাকে নেয়ার জন্য অনেক তোড়জোড় শুরু করেছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়..যদিও তিনি তা সত্যিকারের সেলিব্রেটিদের মতই মুখে হাসি নিয়ে অস্বীকার করছেন। তার বিরুদ্ধে তত্কালীন সময়ে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় অবশেষে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি যে নির্দোষ এবং এটা কুচক্রীদের কারসাজি এ নিয়ে তিনি মিডিয়াতে অনেকবারই বলে এসেছেন। সরকার এবং দুদক ও সে সময় কোনও রকম দুর্নীতি হয় নাই বলে ফতোযা জারি করেন। বেচারা নায়ককে এসব মিথ্যা কেলেংকারীর জন্য মুভির প্রজেক্ট থেকে সরে আসতে বাধ্য হতে হয়েছিল।

ও দিকে প্রযোজক বিশ্বব্যাঙ্ক পদ্মা প্রজেক্ট এ দুর্নীতির যথাযথ তদন্ত না হলে অর্থ দেবে না বলে বেকে বসে। যথারীতি নতুন প্রযোজক এর সন্ধানে সরকার উঠে পড়ে লাগে। যারা কিনা এই প্রজেক্ট এ আসলে সাইড নায়ক নায়িকার ভূমিকা পালন করে। কারণ তাদের উপস্থিতি স্বল্পসময়ের জন্য। অনেকটা আইটেম গানের মত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একারণে কাতারের সাথেও যোগাযোগ করেছিলেন।

আজ দীর্ঘদিন পর অসমাপ্ত পদ্মা প্রজেক্ট আবার মিডিয়াতে ঝড় তুলতে এসেছে। এবার ভিলেন লাইমলাইটে । ভিলেন তার নিজস্ব ঢংগে একশন এ নেমে পড়েছিল। এবং তদন্তের মাধ্যমে কানাডিয়ান নায়িকার (পরামর্শক) সাথে যে তত্কালীন নায়ক আবুলের দুর্নীতির সম্পর্ক ছিল তা প্রমাণ করতে এসেছে। জানা যায় পরামর্শক নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ-সংক্রান্ত কিছূ তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে কয়েক ব্যক্তির নাম উল্লেখসহ বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রদান করেছে । প্রাপ্ত তথ্যে পরামর্শক সংস্থার কাছ থেকে ঘুষ দাবি করার কথা উল্লেখ করা হয় বলে মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়। যদিও আজকের পত্রিকায় দুদক এই খবর এর প্রতিবাদ প্রেরণ করেছে এবং জনাব আবুলকে তার সুবিধামত সময়ে সুবিধামত যেখানে বা যে স্থানে চাইবেন এ নিয়ে কিছূ প্রশ্ন করবে বলে জানিয়েছে, এবং তারা নিশ্চিত করেছে এ ব্যাপারে কাকপক্ষীয় যাতে না জানে সেরকম গোপনীয়তাও রক্ষা করা হবে।

পরিশেষে

দুর্নীতি হয়েছে বা হয় নাই পাল্টাপাল্টি তর্ক বিতর্কে পদ্মা প্রজেক্ট চলে যাচ্ছে দূরে..বহুদূরে..তাই আমরা দর্শকেরা যারা অধীর আগ্রহে এই প্রজেক্ট এর জন্যে বসে আছি, চাই এই বিতর্কের অবসান, চাই এর নির্মাণ।