ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম যে পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব মাতবর বিশ্বব্যাংক তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগের ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলে বিশ্বব্যাংক গত শুক্রবার পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনও অর্থ লগ্নি করবে না বলে ঘোষণা দেয়। উল্লেখ্য যে, পদ্মা সেতু নির্মাণে ২৯০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে তাদের ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল।আর অন্য অর্থ যোগানদাতা এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৬১ কোটি, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ৪০ কোটি এবং ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার ঋণ এবং বাকি অর্থের যোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার।

বিশ্বব্যাংক কেন আর এই প্রকল্পে অর্থ ঋণ দেবে না তার কারণটাও তারা জানিয়েছিল অনেক আগে থেকেই।দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্বব্যাংক ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ও ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)এর কাছে দেওয়া হয়েছে বলে তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে।

কী আছে সেই বিবৃতিতে?

বরাবর দুর্নীতিতে শীর্ষ পর্যায়ে থাকা বাংলাদেশের সব থেকে ক্ষমতাশালী এবং সরকারের আস্থাভাজন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব আবুল হোসেন পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগ এ দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেতু পরামর্শক নিয়োগে এসএনসি-লাভালিনের কাছে মন্ত্রী সাহেবের ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে কানাডিয়ান তদন্ত দল।পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে ৪৭ মিলিয়ন ডলারের কাজ পাইয়ে দিতে এসএনসি-লাভালিনের কাছে ১০ শতাংশ কমিশন চাওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য তদন্তে উদ্ঘাটিত হয়।দুর্নীতিতে আবুল সাহেবের সঙ্গে সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এবং পদ্মা সেতুর সাবেক প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়।

বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির যে অভিযোগ করেছে সাবেক মন্ত্রী আবুল সাহেব সব সময়ই তা প্রত্যাখান করে এসেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মহান দুদক ও নাকি তাদের দুর্দান্ত ত্বরিত তদন্তে আবুল সাহেবের নামে কোনও দুর্নীতির লেশ মাত্র পাননি। তারা আবুলকে স্বচ্ছ ঘোষণা করেছে এবং উল্টা বিশ্বব্যাংকই মিথ্যা বানোয়াট কথা বলেছে বলে আমাদের জনগণের কাছে পত্র পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে এসেছে।

বিশ্বব্যাংক এর নিজের স্বচ্ছতা নিয়ে এবং তাদের উন্নয়নশীল দেশ গুলোর উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা আছে জানি, কিন্তু আমরা তো আমাদের ঘরের মানুষ ভাল করেই চিনি। কে সাধু আর কে চোর, এটা জানতে আমাদের কোনও দেশী-বিদেশী তদন্তের উপর নির্ভর করতে হয় না। এর জন্য অনুবীক্ষণ যন্ত্র এর দরকার পড়ে না। খোলা চোখেই আমরা দুর্নীতির করাল থাবা দেখতে পাই দেশের সর্বত্র।

আমরা আম-জনতা কে সত্য, কে মিথ্যা, কার স্বার্থ, কার মুনাফা নিয়ে চিন্তা করলেও সরকারের তাতে থোড়াই কেয়ার। কাজেই সেতু তৈরি নিয়ে আমরা যে অন্ধকারে ছিলাম সেই অন্ধকারেই আছি। আমরা জনতা শুধু একের পর এক তামাশা দেখছি।

নতুন তামাশা হল সরকার নাকি মালয়েশিয়ার সাথে এই সেতু নির্মাণে স্মারক চুক্তি সই করেছে। শোনা যায় যে গত ১০ এপ্রিল মালয়শিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এবং এর পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী গত ২৮ জুন চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে খসড়া প্রস্তাব দেয় মালয়শিয়া।

কিন্তূ কী আছে সেই প্রস্তাবে?

ধারনা করা যায় যে বিশ্বব্যাংক এর থেকে তারা চড়া সুদে ঋণ দেবে। স্বাভাবিক ভাবেই এতে সেতু নির্মাণে ব্যয় বেড়ে যাবে।প্রস্তাবে আর ও উল্লেখ্খ্য যে মালয়েশিয়া পদ্মা সেতু নির্মাণ করলে ৩৯ বছর এই সেতুর মালিকানা তাদের হাতে চলে যাবে এবং টোল নির্ধারণসহ সবকিছুই থাকবে তাদের হাতে। আর সোজা হিসাবে এর মাশুল দিতে হবে দেশের জনগণকে।

সাধারণ মানুষের ভাগ্যউন্নয়নের উদ্দেশ্যে যে সেতু নির্মাণ, দেশের আপামর জনতার দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি, দুর্নীতি আর নোংরা রাজনীতির কারণে সে সেতু যদি জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়, তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। কাজেই ভয় হয়, মনে প্রশ্ন জাগে পদ্মা সেতু কী আনবে সম্ভাবনা নাকি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে থাকা বিড়ম্বনা?

ছবি ও তথ্য সুত্র: বিডি নিউজ, প্রথম আলো ও ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত।