ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

পাঠক রূপকথার সেই গল্পটা মনে আছে? ওই যে সেই গল্পটি, যেখানে দেবতার অভিশাপে সুদর্শন রাজপুত্র পরিণত হয় কদাকার ব্যাঙ এ। শর্ত একটাই যদি কোনও রাজকন্যে সেই কদাকার ব্যাঙকে চুম্বন করে, তবেই ব্যাঙ থেকে আবার সে পরিণত হবে রাজপুত্রে।এবং গল্পের পরিণতিতে আমরা দেখতে পাই যে, রাজকন্যের কাঙ্খিত সেই চুম্বন এর কল্যাণে কদাকার ব্যাঙ অভিশপ্ত ব্যাঙ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে আবার পরিণত হয় সুদর্শন রাজপুত্রে।

রূপকথার সেই গল্প আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বৃটেনের রাজপুত্র চার্লস পরিণত হয়েছেন ব্যাঙ এ। না, এ কোনও দেবতার অভিশাপে নয়। বরং রাজপুত্রের সম্মানে বিলুপ্তপ্রায় দুর্লভ প্রজাতির একটি ব্যাঙ এর নামকরণ করা হয়েছে “Hyloscirtus princecharlesi “।উল্লেখ্য যে প্রিন্স চার্লস বহু বছর ধরেই পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণীদের রক্ষার্থে বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত। আর এই নামকরণ করাতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং গৌরাবান্বিত।

বিলুপ্ত প্রায় অতি সুদর্শন এই ব্যাঙটি বাদামি রংয়ের। গায়ে কমলা রংয়ের বাহারি স্পট। ইকিউয়াডর এর প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ডক্টর লুইস কলোমা এই দুর্লভ প্রজাতির ব্যাঙটির প্রথম সন্ধান লাভ করেন। তিনি ইকুয়াডর এর ন্যাশনাল পার্কে এই প্রজাতির তিনটি পূর্ণ বয়স্ক এবং কিছু পোনা ব্যাঙ আবিষ্কার করেন।

ক্রমাগত মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে লোপ পাচ্ছে বনজঙ্গলের, সেই সাথে বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন বন্য প্রজাতির। পরিবেশ রক্ষার জন্য এইসব বন্য প্রাণী রক্ষার্থেই তাই রাজকুমার আজ পরিণত হলেন সুদর্শন (কদাকার নয় অবশ্যই!!) ব্যাঙ এ। অথবা উল্টো ভাবে বলতে পারি ব্যাঙ পরিণত হলেন বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর একটি দেশের রাজপুত্রে!!!