ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

11.+Malala

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় যাকে নিয়ে তিনি হলেন মালালা ইউসুফজাই। ১৪ বছর বয়সী সাহসী কিশোরী, যিনি শিক্ষার দ্বারা নিজেকে গড়তে চেয়েছেন। দেশের স্বার্থে নিজেকে নিবেদিত করতে চেয়েছেন। ইসলামের লেবাসে নিজেদের মুড়িয়ে সাধারণ মানুষের শান্তি নষ্ট করে দেয়ার জন্য কুখ্যাত “তালেবান” নামক জঙ্গিদের দ্বারা যখন সোয়াত অঞ্চলে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল, তখন সাহসী মালালা হতোদ্যম হয়ে পড়েননি। বন্ধুদের সাথে নিয়ে তিনি স্কুলে গিয়েছিলেন।মেয়েদের শিক্ষার বিরুদ্ধে তালেবানদের অন্যায় সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেছেন বিশ্ববাসীর কাছে। পরিণামে তিনি ধর্মান্ধ তালেবানদের বুলেটের আঘাতে জীবন মরণের সন্ধিক্ষনে প্রহর গুণছেন হাসপাতালের চার দেয়ালের মাঝে।

 

পাঠক, গুলিবিদ্ধ মালালার সংবাদে আমি একটুও অবাক হইনি। কেন অবাক হবো বলুন তো? এ তো কোনও পুরাতন ঘটনা নয়..এতো অনেক পরিচিত ঘটনা আমাদের কাছে। খুব বেশীদিনের কথা তো নয়, যখন বাংলাদেশের কিশোরী হাওয়া পড়াশুনা করতে চেয়ে স্বামী নামক পশুর দ্বারা হাতের আঙুলগুলি খুইয়েছিলেন। গুলিবিদ্ধ পাকিস্তানের মালালার সাথে বাংলাদেশের হাওয়ার পার্থক্য কোথায়? না কোনও পার্থক্য নেই।যেন হাওয়া নামক কিশোরী আজ মালালা নাম ধারণ করেছেন। আর এর পশ্চাতের কারণেও রয়েছে অপূর্ব সাদৃশ্য।

 

তালেবানরা মালালাকে গুলিবিদ্ধ করেছে..কেন? উদ্ধত তালেবানদের সাফাই হল নারীশিক্ষা বন্ধ করতে হবে। কারণ মেয়েদের মাঝে পশ্চিমা সংস্কৃতির কুপ্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে। হাওয়ার স্বামী তো তালেবান নয়..তবে কেন সে চেয়েছিল হাওয়া পড়াশুনা না করুক? তারা সবাই ইসলামের দোহাই দিয়েছে। যুগে যুগেই ধর্মান্ধ মুসলিম পুরুষেরা ধর্মের ভয় দেখিয়ে মেয়েদের শিক্ষা বঞ্চিত করতে চেয়েছে..ইসলামে নারীশিক্ষা হারাম, মেয়েদের পর্দার বাহিরে যাওয়া নিষেধ,পড়াশুনা করলে তারা উচ্ছন্ন যাবে, ইত্যাদি ইত্যাদি জাতীয় ভিত্তিহীন মিথ্যা কথাবার্তা বলে তারা মেয়েদের ঘরের মাঝে বন্ধ রাখতেই চেয়েছে।

প্রশ্ন হলে যে ধর্মের দোহাই তারা দিচ্ছে, আদৌ কী ইসলাম নারী শিক্ষার বিপরীতে? না কখনোই নয়। আব্দুল্লাহ ইবন মাস’উদ কতৃক বর্ণিত আছে, মহানবী(স:)বলেছেন,” “If a daughter is born to a person and he brings her up, gives her a good education and trains her in the arts of life, I shall myself stand between him and hell-fire.” সুত্র: Women in Islam : M. Mazheruddin Siddiqi)। ওপর একটি হাদিছে বর্ণিত আছে “Seeking knowledge is obligatory upon every Muslim man and woman.”

কই ইসলাম তো কোথাও বলেনি যে মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণ করা যাবে না, বরং তা অবশ্যপালনীয় কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা আছে। তাহলে ইসলামকে বিশ্বের দরবারে কালিমা লেপন করার অধিকার তালেবানদেরকে কিংবা ধর্মের লেবাছধারীদেরকে দিল?

আসল কারণ হল, ইসলামকে ঢাল বানিয়ে আড়ালে থাকা ধর্মান্ধ মূর্খদের নিজেদের অস্তিত্তের সংকট। পাছে মেয়েরা শিক্ষিত হয়ে তাদের ভন্ডামির মুখোশ উন্মোচন করে দেয়, পাছে তাদের মিথ্যা ধরা পড়ে যায়, তাই বুলেট দিয়ে চিরতরে মুখ বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত। নারী শিক্ষা কখনোই বন্ধ হবার নয়..হবেও না..যে মুসলিম দেশের মেয়ে মালালা শিক্ষালাভের জন্য গুলিবিদ্ধ হয়, সেই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একজন নারী। যে দেশে হাওয়ার মত কিশোরী শুধু পড়াশুনা করতে চাওয়ার জন্য হাতের আঙুল হারিয়ে চিরজীবনের মত প্রতিবন্ধী হয়ে যায়, সেদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলেরপ্রধান কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকেন নারী।

নারীশিক্ষার বন্ধের জন্য ধর্মান্ধ পুরুষেরা যতই বুলেটের দ্বারা টুটি চিপে ধরার চেষ্টা করুক না কেন, সে কখনোই বন্ধ হবে না ..যে আলোর সন্ধান মালালা কিংবা হাওয়া পেয়েছেন, তা কখনোই নিভে যাবে না…কোনও হুমকি, মৃত্যুভয়, শারীরিক নির্যাতনই নারিশিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি কখনো..অতীতে নয়, বর্তমানে নয়..ভবিষ্যতেও তা কখনোই হবে না। কারণ, যুগে যুগেই হাওয়া বা মালালারা বুঝে গেছেন, শিক্ষা শুধু মুসলিম নারীর অধিকার নয়, তা তাদের কর্তব্যও বটে।