ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

সাম্প্রতিক সময়ে সবথেকে জনপ্রিয় সামাজিক নেটওয়ার্কের নাম সম্ভবত ফেইসবুক।বিশ্বজুড়ে প্রায় শত কোটির উপর মানুষ ফেইসবুক ব্যবহার করছে। ফেইসবুক ব্যবহারের পক্ষে শত শত যুক্তি থাকলেও আমার আজকের পোস্টের আলোচ্যবিষয় সেগুলো নয়। আমি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার মূলে ফেইসবুকের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথাই উল্লেখ করতে চাই এই পোষ্টে।

আমাদের দেশে সম্প্রতি ন্যাক্কারজনক যে ঘটনাটি ঘটেছে, তাহলো সংখ্যালঘু বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের পবিত্র উপাসনালয় ও তাদের ঘর বসতিতে আগুন লাগিয়ে দেয়া। মূল কারণ উদঘাটনে যে সত্যটি বেরিয়ে এসেছে তাহলো, ঘটনাটি ঘটেছে ফেইসবুকের অপকল্যাণে। কেউ একজন ঘৃণ্য উদ্দেশ্য চরিতার্থে ফেইসবুকে উসকানিমূলক অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ছবি পোস্ট করেছে, এবং সংঘবদ্ধচক্র সে মোতাবেক সাধারণ মানুষদের ফুসলিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করেছে। ভিতরে কী অপরাজনীতি আছে কিংবা নেই, সে টা আমার আলোচ্য বিষয় নয়। বিষয় হল সামাজিক একটি নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করা হচ্ছে নাশকতামূলক কর্মকান্ডে। কেউ বলেছে চিলে কান নিয়ে গেছে, অন্যরা সেটা যাচাই বাছাই করার প্রয়োজন বোধ করেনি।কান খুজতে লেগে গেছে অসহায় মানুষের পুড়িয়ে দেয়া বিশ্বাসের ছাইয়ের ভিতরে।

নাফিস নামক যে ছেলেটির চেহারা এখন সারা দুনিয়ার মানুষ ঘরে বসে রিমোট টিপলেই কিংবা ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে নিউজ পেপারে দেখতে পাচ্ছে, তার পিছনের অপশক্তিটির নাম ফেইসবুক। এমেরিকানদের উপর তার প্রগাঢ় ঘৃণা প্রকাশ করেছে সে তার ফেইসবুকের স্ট্যাটাস এ, খোদ এমেরিকাতে বসেই। এফবিআই এর পাতা ফাদে সে নিজেই ধরা দিয়েছে।নাটকের নাটেরগুরু ফেইসবুক। নাফিসের কর্মকাণ্ড এর কার্যকরণ ও প্রভাব কী, কেন এবং তার কপালে কী আছে সে টা ভবিষ্যত বলে দেবে। কিন্তু সামাজিক এই মাধ্যমটির অপব্যবহার যে কিভাবে সম্ভামনাময় একটি তরুণ ও তার পরিবাবের নিদ্রাহীন রাত্রির কারণ হতে পারে, তা সহজেই প্রমাণিত। আর এক নাফিসের ফেইসবুকীয় কর্মকান্ডে প্রবাসে আমাদের বাংলাদেশীদের ভবিষ্যত যে কত অনিশ্চয়তায় পূর্ণ হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

শুধু নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডই নয়, ব্যক্তিবিশেষের চরিত্রনাশ, হত্যা হুমকি, পারিবারিক ভাঙ্গন, জালিয়াতি, কিডন্যাপ এর মত সামাজিক অপরাধ ঘটছে জনপ্রিয় এই সামাজিক নেটওয়ার্কিং এর দ্বারা। সাম্প্রতিক সময়ে মেধাবী একজন সরকারী ডাক্তার গ্রেফতার হয়েছে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মরহুম হুমায়ুন আহমেদের বিধবা স্ত্রী শাওনকে হত্যাহুমকি দিয়ে। সে ক্ষেত্রেও মাধ্যমটি হল ফেইসবুক। “উই হেইট শাওন” নামক একটি ফেইসবুকিও গ্রুপ তৈরি হয়েছিল শাওনের বিরুদ্ধে। শাওন এর ক্ষেত্রে আমাদের প্রশাসন ত্বরিত গতিতে ব্যবস্থা নিয়েছে জন্য হয়তো তিনি বড় বিপদ থেকে বেচে গেছেন..কিন্তু এমন ভাগ্য তো অনেকের নাও হতে পারে!!!তাইতো ঘটে যাচ্ছে অনেক অনাকাংখিত ঘটনা।

অন্যের নাম, ছবি ব্যবহার করে ফেইক আইডি খুলে সমাজের হতাশাগ্রস্ত মানসিক রোগীরা আজ আশ্রয় নিয়েছে ফেইসবুক নামক সামাজিক এই ওয়েবসাইটে। এটা সবারই জানা যে, যেকোনো প্রযুক্তির ভাল-মন্দ আছে..থাকবে..কিন্তু খারাপ পরিহার করে ভালো দিকটিকে গ্রহণ করাই কাম্য। সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার জন্য তৈরি যে মাধ্যমটি তা যেন গ্রাস না করে ধর্মান্ধ জঙ্গীবাদ, মতলববাজ অসুস্থ মনুষ্য। সামাজিক অস্থিরতা তৈরিতে তা যেন না হয় অন্যতম হাতিয়ার।

**** এ বিষয়ে চমত্কার একটি পোস্ট আছে এখানে..http://blog.bdnews24.com/manzurm/79085
ফেসবুক আদৌ কি কোন সামাজিক ওয়েব সাইট?, মঞ্জুর মোর্শেদ