ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গত ১০ ডিসেম্বর, সোমবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে। ১১ ডিসেম্বর তাদের পূর্ব ঘোষিত হরতালের আগের দিন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতারের কারণ হিসেবে জানা যায় যে, রোববারের (৯ ডিসেম্বর) অবরোধে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ৩৮টি মামলা করা হয়েছে (সুত্র: বিডি নিউজ ২৪, ১১ ডিসেম্বর)। তার মধ্যে বাছাই করা ২টি মামলায নাকি তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার একটির বাদী আমাদের চৌকশ পুলিশবাহিনী এবং অন্যটির বাদি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের এক গাড়িচালক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী চলুন দেখি,

অবরোধের দিন সকাল ৭টার দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল এবং যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে দুইশ’ নেতাকর্মী সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে।

পল্টন থানায় সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির ড্রাইভার আইনাল এর করা মামলায় ফখরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশ্ন হল এই গরীব খেটে খাওয়া ড্রাইভারের উপর বন্দুক রেখে কেন রাজনীতির নোংরা খেলা খেলতে হবে? ফখরুলের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য কী হোমরা চোমরা দলীয় নেতার অভাব ছিল? তারা কেন এর দায়ভার নিল না?এসব হাস্যকর মামলা করে সরকার কী প্রমাণ করতে চাইছে? এইসব আইনালের কী আদৌ কোনও ভূমিকা আছে রাজনীতিতে? কেউ কী একবারও ভেবে দেখেছে এই আইনাল ড্রাইভারের কী হবে পরবর্তীতে? বিএনপি ক্ষমতায় আসলে যে এই ড্রাইভার খুন হবে না, এর গ্যারান্টি কী কেউ দিতে পারবে? কিংবা যে পুলিশ সরকারী চাপে মামলা করেছে, তার যে কী হাল হবে তা কিন্তু আমরা ম্যাংগো জনগণ ভবিষ্যত দ্রষ্টা না হয়েও দিব্য চোখে দেখে নিতে পারি.. ক্ষমতার পালাবদলে অতীতেও দেখেছি এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ!!

এবার শুনুন আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবী রফিকুল ইসলাম মিয়ার কথা,

“সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মামলার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য।

সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ির কিন্তু কোনও দাম নাই..পুড়ে গেলেই কী না পুড়ে গেলেই বা কী!! এটা কী আর কোনও দূতাবাসের গাড়ি নাকি যে আমলে নিতে হবে!!! এক রফিকুলের এই বাণী কিন্তু সমগ্র রাজনীতির চালচিত্র অনায়াসে বুঝিয়ে দেয়..এখানে দেশ, দেশের সম্পদের ক্ষয় ক্ষতি, দেশের মানুষের অসুবিধা কিন্তু বড় কথা নয়..এসব যেন কোনও ব্যাপার না। ক্ষমতার মসনদে বসাই সবার প্রধান লক্ষ্য!!!কারণ এরা আমাদের পরম শুভকাঙ্খি!! হায় রে রাজনীতি।

এদিকে, ফখরুল গ্রেফতার হয়ে কিন্তু বিএনপি যে মন খারাপ করেছে তা কিন্তু নয়..বরং মনে মনে সরকারকে যে কতবার থ্যাংকস দিয়েছে তা অনুমান করে নিতে কষ্ট হয়না মোটেও। আর গ্রেফতারের সময় ফখরুলের হাসিমাখা চেহারা দেখেই বোঝা যায় রাজনীতির কূটচাল সফল হবার আনন্দে তিনি ঝলমল করছেন!! কারণ ফখরুল গ্রেফতারে পরপরই এরা পেয়ে যায় আলাদীনের চেরাগের মত হরতাল করার কাঙ্খিত ইস্যু..এখন খালি ঘষা দাও..আর হরতাল কর..আর ফখরুল ওখানে কারাগারে ভিভিআইপি রুমে বসে রেস্ট নিক!!

বিরোধীদল থেকে ইতোমধ্যেই মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতারের পর তার মুক্তির দাবিতে লাগাতার হরতালের ভয়াবহ কর্মসূচির হুমকি দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে একের পর এক হরতাল এর ভোগান্তি ভুগতে হবে জনগণকে। প্রশ্ন হল কেন তাহলে ফখরুলকে গ্রেফতার করে বিরোধী দলকে এসব হরতাল করার সুযোগ দিচ্ছে সরকারী দল? উদ্দেশ্য কী? এই যে মাঝখান থেকে সরকারী দলের হাতে বিশ্বজিত খুন হল এতে সরকারী দলের ক্ষতি বই লাভ তো কিছু হল না।

সংক্ষেপে তাহলে এখন চলুন কস্ট-বেনিফিট এনালাইসিস করে নেই।

ফখরুলের জন্য বিরোধীদলের লাভ:

১। হরতাল করার আরও সুযোগ।
২। মওকামত বিশ্বজিতের মত আরও লাশ।
৩। দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে সংঘবদ্ধতা আনয়ন
৪। নিজেদের শক্তি প্রমাণের মহড়া
৫। সরকারী দলকে বেকায়দায় ফেলার বহুল কাঙ্খিত সুবর্ণ সুযোগ সন্ধান।

ফখরুলের জন্য সরকারী দলের ক্ষতি:

১। বিশ্বজিতের মত বেকায়দায় ফেলা লাশ
২। নিজের দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের বহিষ্কৃত ঘোষণা করে দলীয় শক্তি হ্রাস
৩। মিডিয়ার সহানুভূতি হ্রাস
৪। বিদেশী সাহায্যদাতার কাছে জবাবদিহি
৫। ফখরুলকে বসায় বসায় মেহমানের মত পোলাও, কোরমা খাওয়ায মেহমানদারি.

কস্ট-বেনিফিট এই এনালাইসিস পাঠকদের জন্য ওপেন..যে কেউ হিসাবে যোগ দিতে পারেন..দেখা যাক কার কেমন লাভ-ক্ষতি হয়।

*****
তথ্য ও ছবি সুত্র: বিডি নিউজ ২৪, এর ৯, ১০ ও ১১ ডিসেম্বর, ২০১২ এবং গুগল ইমেজ।