ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

মুক্তিযুদ্ধের সময় কুখ্যাত রাজাকার কসাই কাদের মোল্লার তাণ্ডবে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল মিরপুরের আলুব্দি (আলোকদি) গ্রাম। কসাই মোল্লা ১৯৭১ সালে মিরপুরে বসবাস করত। ১৯৭১ এর ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যার পর এই ঘৃণ্য নরপশুর নেতৃত্বে আক্তার গুন্ডা, নেওয়াজ, লতিফ ও ডোমাসহ প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন লোক আলুব্দী গ্রাম ঘিরে ফেলে এবং নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। ১৪ এপ্রিল আসে পাক বাহিনীর হেলিকপ্টার। যারা সেদিন তুরাগ নদী সাঁতরে প্রাণ হাতে পালাতে পারেননি, মারা পড়েন সেই সব অসহায় গ্রামবাসী। আমির গুণ্ডা আর কসাই কাদেরের নেতৃত্বে গ্রামে ঘটেছিল অগ্নি সংযোগ, হালের বলদ পর্যন্ত পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল সেদিন। সে সময় কাদের এবং পাক সেনার হাতে নির্মমভাবে এই গ্রামের সাড়ে তিন শ’ মানুষ মারা যায়।

১৯৭১ এর সেই ক্ষণ গ্রামবাসী এখনো ভোলেনি, ভুলতে পারেনি সেই দুঃসহ হত্যাযজ্ঞ। আলুব্দি গ্রামের প্রতিটি পরিবারের সাথে জুড়ে আছে কসাই কাদেরের নৃশংসতা। এখানে প্রতিটি পরিবারে কাদের মোল্লার নির্যাতনের ক্ষত আছে। সেদিনের সেই দুঃসহ স্মৃতি বয়ে নিয়ে তারা আশায় বুক বেধেছিল।তারা ভেবেছিল কসাই মোল্লার ফাঁসির দ্বারা আলুব্দির মাটির সাথে মিশে থাকা শহীদের রক্তের ঋণ কিছুটা হলেও তারা চুকিয়ে দিতে পারবে।

কসাই কাদেরের বিরুদ্ধে আলুব্দি গ্রামের ৩৪৪ জনকে নির্বিচারে হত্যা “অভিযোগ ৫”-এ পেশ করা হয়েছিল। সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত এই গণহত্যার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়!!!! প্রহসনের এই রায়ে আলুব্দী গ্রামবাসী শোকে স্তবির হয়ে গেছে।আলুব্দি গ্রামবাসী ক্ষোভে-যন্ত্রনায় চিৎকার করে ফেটে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সমগ্র জাতির সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে আলুব্দির সবাই আজ চিত্কার করে বলছে, “এ রায় মানি না। কসাই কাদেরের ফাঁসি চাই।“

শুধু আলুব্দি নয়, যুদ্ধাপরাধী রাজাকার কসাই মোল্লার কুকর্মের বিরুদ্ধে ঘোষিত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশের রায় শুনে সমগ্র জাতি আজ স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ। জাতি আজ লজ্জিত এই রায়ে। জাতি লজ্জিত আলুব্দি গ্রামবাসীর কাছে।

রাজাকার কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় আলুব্দি গ্রামবাসীর অধিকার, সমগ্র জাতির অধিকার। চলুন দলে দলে আমরাও সামিল হই দাবি আদায়ের এই মিছিলে। একাত্তরে কাদের মোল্লার হাতে রক্তাক্ত হয়েছিল যে মাটি, সেই আলুব্দি গ্রামে দাঁড়িয়ে বলি – সর্বোচ্চ শাস্তি চাই রাজাকারের। মৃত্যুদণ্ড চাই কসাই কাদের মোল্লার।

এখন সময় আলুব্দি গ্রামবাসীর সাথে কণ্ঠে কণ্ঠে মিলিয়ে এই রায় বাতিলের দাবি তোলা। যে মাটিকে কাদের মোল্লা রক্তাক্ত করেছিল, যে গ্রামে চলেছিল গণহত্যা- সেই আলুব্দি গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে, সেই মাটির শপথ নিয়ে চলুন সবাই মিলে রাজাকার-কসাই কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের আওয়াজ তুলি। আলুব্দির মাটি ছুঁয়ে শপথ নেই – আমরা ফিরে যাব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়।

আমরা শুরু করব সেই আলুব্দি থেকে। প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেব সারা দেশের আনাচেকানাচে,প্রবাসে..সর্বত্র।

স্থান: আলুব্দি (আলোকদি) গ্রাম
ঠিকানা: পল্লবী, মিরপুর-১২ বাস স্ট্যান্ড
(এখান থেকে রিকশা নিয়ে যাওয়া যায়, মিরপুর-১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড থেকে খুবই কাছে আলুব্দি গ্রাম।সব রিকশাওয়ালাই চেনে… রিক্সা ভাড়া ১০-১৫ টাকা হতে পারে)
সময: বিকাল ৪:০০
কবে: শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে: ব্লগার মজিবর (নম্বর মুছে দেয়া হল)

এবং নীলকন্ঠ জয়ের নাম্বার- (নম্বর মুছে দেয়া হল)

আপনার যারা আসছেন তারা দয়া করে ২-৩ টার মধ্যে চলে আসুন। আপনাদের যাদের ক্যামেরা আছে সাথে নিয়ে আসলে ভাল হয়। আমরা অন্তত কালের সাক্ষী হয়ে আমাদের এই মহতী উদ্যোগ ছড়িযে দিতে পারব সবার মাঝে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সকলই চলে আসুন, প্ল্যাকার্ড হাতে, ব্যানার হাতে, রাজাকার কসাইয়ের কুশ পুত্তলিকা বানিয়ে। ওইদিন আমরা পুনরায় কাদের মোল্লার ফাঁসি দেব। স্মৃতি বিজড়িত আলুব্দির মাটিতে, কসাই কাদেরের কুশপুত্তলিকা দাহ হবে। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম জনতার মঞ্চে এই রাজাকারের একবার ফাঁসি দিয়েছিলেন..আজ সময় এসেছে তা বাস্তবায়িত করার..আমরা করব, আর তা হবে এই আলুব্দিতেই।

আপনারা যারা একটু সন্ধ্যা পর্যন্ত আলুব্দিতে থাকতে পারবেন, তারা সঙ্গে মোমবাতি নিয়ে আসতে পারেন। তাহলে সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে আমরা প্রতিবাদ করতে পারব। আপনাদের মধ্যে যারা বা যাদের বন্ধুদের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পদচারণা রয়েছে, তারা তাদের কণ্ঠে তুলে নিতে পারেন প্রহসনের এই রায়ের বিরুদ্ধে বিপ্লবী সুর, যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাতে জানেন, প্রতিবাদমুখর তান তুলে নিন আপনার বাদ্যযন্ত্রে। আসুন রঙ-তুলি নিয়ে, প্রতিবাদের রঙে রাঙিয়ে দিতে আলুব্দি গ্রাম।

বজ্রকন্ঠে সবাই বলি, “কসাই কাদেরের ফাঁসি চাই, এর কোনও বিকল্প নাই।”

রাজাকার কসাই কাদেরকে নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন দেখুন নিচের লিংকে,

***********
ব্লগারদের প্রদত্ত আপডেট: ঢাকা/ঢাকার বাইরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন

1. চট্টগ্রাম নিয়ে ছবি পোস্ট দিয়েছেন সম্মানিত ব্লগার হাসান মসফিক
কাদের মোল্লা সহ সব যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণআন্দোলন, চট্টগ্রাম

2.ময়মনসিংহ নিয়ে ছবিসহ পোস্ট দিয়েছেন সম্মানিত ব্লগার মোত্তালিব দরবারী

ময়মনসিংহে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে অবস্থান কর্মসূচী:সর্বশেষ আপডেট
ময়মনসিংহে বিক্ষোভ মিছিল-অবস্থান কর্মসূচী: কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি(আপডেট)
রাত ১১.২৫ মিনিটে ময়মনসিংহ সমাবেশ

ব্লগার বন্ধুরা সবাইকে নিচের ফেসবুক লিংকটিতে গিয়ে আমাদের ইভেন্ট লিংকটি শেয়ার করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
কমান্ডার এর পাতা,
https://www.facebook.com/pages/Sector-Commanders-Forum-Liberation-War71/305101822834930?ref=ts&fref=টিএস

আমাদের ইভেন্ট লিঙ্ক এখানে

https://www.facebook.com/events/475126429203827/?context=create

************
সর্বশেষ আপডেট:
আমাদের ব্লগারেরা পৌছে গেছেন আলুব্দি।সেখানে গ্রামের ভিতরের বড় মাঠে ব্লগারদের সাথে স্বতষ্ফুর্তভাবে গ্রামবাসীরা আমাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে। আমরা সবাই মিলে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছি। গ্রামবাসীর ভিড় ক্রমশই বাড়ছে। সবার মাঝেই উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ব্লগার ও গ্রামের সবাই মিলে কসাই কাদেরের কুশপুত্তলিকা বানান হয়েছে।শাবল দিয়ে গর্ত খোড়া হচ্ছে এখন।

ব্লগার অনেক বন্ধুই আমাদের সাথে এখন আলুব্দিতে আছেন। কুশপুত্তলিকা বানান শেষ হয়েছে।মাঠের উপর অনেক মোমবাতি জ্বালানো হয়েছে। জনতার মঞ্চ বানান হয়েছে। গ্রামবাসী সহ ব্লগারেরা এখন জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন।কাদের মোল্লার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সাক্ষাতকার আমাদের ব্লগারেরা ধারণ করেছে। সেদিনের ঘটনার অনেক সাক্ষীও আমাদের সাথে আছেন এই মুহূর্তে।