ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

স্বপ্নে পাওয়া আধুনিক সংবিধানের অলঙ্ঘনীয় বিধান সংখ্যা ১০।

১ম বিধান ।। ক্ষমতার বিধান
জনগনকে যদি দলে ভিড়াতে হয় তাহলে প্রতিশ্রুতির মন্ত্র পাঠ করতে হয়। এবং লক্ষ্য পূরণের পর তা ভুলে যেতে হয়।

২য় বিধান ।। অর্থনীতির বিধান
সম্মুখে যখন টাকা, তখন নাগরিক ও শাসক সম্প্রদায়  মহাজগতের একমাত্র ঈশ্বর ‘সৃষ্টিকর্তা’কে ভুলে যায় এবং টাকাকে এই পৃথিবীর প্রধান দেবতা বলে মেনে নেয়।

৩য় বিধান ।। ভালোবাসার বিধান
নর-নারীর এই ভুবনে মিলন না হলে অন্য ভুবনে মিলন হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে এই ভুবনে ও অন্য ভুবনে কোন ভুবনেই মিলন ও ঐক্য বৈধ নয়।

৪র্থ বিধান ।। বাক্-স্বাধীনতার বিধান
কথাশিল্পী জনসেবকদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ৩টিঃ

  • তারা বলে “কথা কম কাজ বেশি“।
  • তারা করে ‘কাজ কম’, বলে ‘কথা বেশি’।
  • তাদের ক্ষমতা বর্তমানের, কিন্তু কথা বলে শুধু ভবিষ্যতের।

৫ম বিধান ।। নাগরিকত্বের বিধান
দেশে অপরাধীরা প্রথম শ্রেনীর নাগরিক এবং তাদের দমনে যারা নিয়োজিত তারা শ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী।

৬ষ্ট বিধান ।। জবাবদিহিতার বিধান
ক্ষমতায় যেয়ে কোথাও যদি ব্যর্থতা আসে তাহলে তা অস্বীকার করে পূর্ববর্তী ক্ষমতাবানকে ব্যর্থতার জন্য পুরো মাত্রায় দায়ী করা অপরিহার্য।

৭ম বিধান ।। নিরাপত্তার বিধান
কথা কলহের বড় উৎস। গৃহে তালা না দিলে একাকী একজন সম্পদ হারাবে কিন্তু মুখে তালা না দিলে দেশ ও জনগন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগন নিজ দায়িত্বে মুখে তালা লাগায় এবং চোখে দৃষ্টি প্রতিবন্ধক চশমা পরে।

৮ম বিধান ।। ভিন্নমতের বিধান
কোন দল যদি দৈববাণীও প্রকাশ করে তাহলে বিরোধী দল সেটাকে অবধারিতভাবে ভুল ও মিথ্যা বলে মেনে নেয়।

৯ম বিধান ।। ভাবের বিধান
বাতি জ্বলে কি-না, চাঁকা ঘুরে কি-না, বাজারে পণ্য কেনা যায় কি-না সেটা ভাবার ক্ষমতা ক্ষমতাশীলদের দেয়া হয় না; সূর্য, কাঠুরিয়া এবং কৃষক এগুলো ভাবার দায়িত্বপ্রাপ্ত।

০তম বিধান ।। সুখের বিধান
ক্ষমতার চেয়ে সুখের কিছু নাই। সুখের প্রয়োজনে দল ও মতের পরিবর্তন প্রশংসনীয়। সুখকর এমন কোন প্রক্রিয়াই এ নগরীতে অবৈধ নয়।