ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

30

এক নারীতে তৃপ্ত থাকা প্রাকৃতিক না।
তাড়না থাকা সত্ত্বেও অনেক পুরুষ একাধিক নারী পরিহারের চেষ্টায় থাকে। ভায়াগ্রা (বা এই জাতীয়) ওষুধ উৎপাদনকারীদের কর্মকাণ্ড তাদের এই প্রচেষ্টাকে প্রায়শ ব্যর্থ করে। একজন ভায়াগ্রাসেবী পুরুষের জন্য একজন স্বাভাবিক নারী যথেষ্ট না বা নারীগুলো ভায়াগ্রাসেবীদের সব চাহিদা পূরণে অদক্ষ। দম্পতিদের দু’জন সদস্যদের একজন যখন ভায়াগ্রাসেবী অধিক ক্ষমতাধর, তখন ক্ষমতায় পিছিয়ে থাকা দ্বিতীয় জন প্রথম জনের সাথে তাল মেলাতে অক্ষম। এ জন্যই দেখা যায় ৭২ বৎসর বয়সী ভায়াগ্রাসেবী পুরুষ যখন ১৭ বছর বয়সী সঙ্গিনী খুঁজে নেয়, তখন তার অধিক বয়সী নিরপরাধ স্ত্রীটি বাড়ী ছেড়ে চলে যায় ( শুধু নিজের সম্মান রক্ষা করার জন্য)।

এই দেশে ২০১২-এর সেপ্টেম্বরে ভায়াগ্রা অনুমোদিত হয়েছে।
প্রশ্ন থাকে, ‘এ সমাজে ভায়াগ্রা অনুমোদন করা যায় কি-না’। উত্তরে বলা যায় আগে সম্মৃদ্ধি আসুক, সুখ হোক, ভালোবাসা জাগুক; জীবনে একান্ত হয়ে কেউ আসুক। তখন যদি দেহে কাম না জাগে তবেই ভায়াগ্রা বিবেচিত হোক, অন্যথায় ভায়াগ্রার জন্য সব সময় ‘না’ শব্দটাই বরাদ্ধ হোক। অর্থাৎ যদি দেখা যায় একজন ভদ্রলোকের সব হয় কিন্তু উত্থান হয় না, তাই প্রিয়তমা স্ত্রী তাকে পরিত্যাগ করেছে, তবেই তাকে ভায়াগ্রা সেবনের পরামর্শ দেয়া হোক। ভদ্রলোকটি যদি এক বা একাধিক নারীর কাছে নিজেকে আরো সক্ষম করে তোলার জন্য ভায়াগ্রা সেবন করতে চায় তবে সে ক্ষেত্রে তাকে বিরত করা হোক।

অসুস্থ মানুষের জন্য ওষুধ হলেও সুস্থ মানুষের জন্য ভায়াগ্রাকে বিষ বিবেচনা করা যায়।
ভায়াগ্রা বা এ জাতীয় ওষুধ হাতের নাগালে পেয়ে (পরখ করার মানসিকতায় কিংবা নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনায়) যারা এর ব্যবহার শুরু করে তারা মূলত নিজেকে এবং রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরো কিছু বিশ্লেষণ খণ্ডিতভাবে তুলে ধরা হলো।

প্রেম
সৃষ্টির আদিতে প্রেম এবং কাম যেমন ছিল এখনো তেমনি আছে। তবে এখন সম্পর্কে অবিশ্বাস এবং বস্তুতে ভেজাল বহুল প্রচলিত। ফলে মনে প্রেম থাকলেও অনেকের দেহে কাম নাই। দেহ-মনের এই সমন্বয়হীনতা ব্যাবসায়ীদের অঢেল মুনাফা করার সুযোগ করে দিয়েছে। সে জন্যই ভায়গ্রার ব্যবসা রমরমা ব্যবসা।

বিয়ে
পৃথিবীতে সভ্যতার সূচণা হয়েছে আগুন আবিষ্কারের মাধ্যমে। মানুষের জীবনে সভ্যতার শুরু হয়েছে বিয়ে নামক সামাজিক প্রথার মাধ্যমে। প্রেম প্রাকৃতিক, বিয়ে সামাজিক। প্রেম সব সময়ই মধুর; বিয়ে কখনো মধুর, কখনো অমধুর। বিয়ে পরিচর্চা ছাড়া সুখের হয় না। সঙ্গীর সব কিছু ভালো হবে এমনটা আশা করা অবাস্তব। তার ‘গ্রহণযোগ্য মন্দগুলো’কে গায়ে না মেখে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে, ভালোগুলোকে উপভোগ করাই প্রকৃত ভালোবাসা, আর যেখানে প্রকৃত ভালোবাসা আছে সেখানে ভায়াগ্রা অপ্রয়োজনীয়। প্রেমের পৃথিবীতে ভালোবাসার চেয়ে বড় কোন ভায়াগ্রা নাই।

দেহমন
দেহ ও মন একই জিনিসের দু’টি ভিন্ন অবস্থান (একটি দৃশ্যমান, অন্যটি অদৃশ্য; একটা শাসক, অন্যটা শাসিত)। দু’টিকে আলাদা চিন্তা করা অনুচিত। দেহ ছাড়া মন অচল, মন ছাড়া দেহ অর্থহীন। দেহের অসুস্থতা মন খারাপের কারণ। আর মন খারাপ অনেক অসুস্থতার পূর্বশর্ত। ভায়াগ্রাসেবীরা দেহকে জাগায় মনকে বিবেচনার বাইরে রেখে। এটা মনকে ভালো করতে পারে না, (পারলেও সাময়িকভাবে) তাই শেষ পর্যন্ত দেহমন দু’টিকেই বিকল করে।

আনন্দ
পৃথিবীতে দু’টি নবায়নযোগ্য আনন্দ (Renewable Pleasure ) আছে। দু’টিই ভোগের আনন্দ। একটি ‘খাদ্য গ্রহণের আনন্দ’ আর অন্যটি ‘সম্ভোগের আনন্দ’। একজন মানুষ এর আগে কতবার খেয়েছে বা না খেয়েছে সেটা বর্তমানে যা খাচ্ছে তার উপর প্রভাব বিস্তারে অক্ষম। সর্বশেষ খাওয়াটাই সেরা খাওয়া। একজন মানুষ এর আগে কতবার শীর্ষ-সুখ পেয়েছে সেটা বর্তমানে আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। সর্বশেষ শীর্ষ-সুখের সাথে এর আগের শীর্ষ-সুখের কোন যোগাযোগ নেই। শেষ সুখই প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ সুখ।

এই সুখের পৃথিবীতে আসক্ত মানুষদের জন্য একটি দুঃসংবাদ আছে।
কেউ যখন ভায়াগ্রা (বা এ জাতীয় ওষুধ) খেতে শুরু করে তখন তার আনন্দ নবায়নযোগ্যতা হারাতে শুরু করে। ফলে এক সময় তার সুখ শক্তিবর্ধক-নির্ভর হয়ে যায়। এবং সব শেষে শক্তিবর্ধকও তাকে সুখ দিতে ব্যর্থ হয়। পরম সুখের এই পৃথিবীতে তখন সে হয় চরম দুঃখী!

ধানমন্ডি, ঢাকা, ২৮-সেপ্টেম্বর-২০১২
পরিমার্জন এবং শিরোনাম পরিবর্তনঃ ২২-আগস্ট-২০১৪