ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

সম্প্রতি একটি লেখা পড়ে আমি সুখী হতে পারিনি। তাই লেখাটি পড়ার পর আমার কিছু ভাবনা ও মতামত সবার সাথে শেয়ার করার তাগিদ বোধ করছি। আমার বাক-স্বাধীনতার প্রকাশ ও গণতন্ত্র চর্চার প্রয়াশে অনলাইন গণমাধ্যমের যে সহযোগিতা তা কাজে লাগাতে চাই ।

লেখাটির পরিচিতিঃ
শিরোনামঃ
লেখকঃ সহব্লগার
বিষয় বস্তুঃ সুখ, সুখবাদ ইত্যাদি
প্রকাশ মাধ্যমঃ বিডিনিউজ ব্লগ
প্রকাশকালঃ ২০১২

পাঠ নির্দেশনাঃ
সহব্লগার ভাইয়ের পোষ্টের যে অংশগুলো আমাকে অসুখী করেছে সেগুলো দিয়ে শুরু করব। উক্ত পোষ্টের কথাগুলো বোল্ড হরফে চিহ্নিত থাকবে আর আমার কথাগুলো এর পর পরই থাকবে।

পাঠক-লেখক-মতবাদী মিথস্ক্রিয়াঃ
১# ”যা মানুষের পক্ষে সুখদায়ক তা ভালো আর যা সুখের পরিপন্থি তা মন্দ কাজ”

আমি যদি একজন উদ্ভিন্নযৌবনা দেহবতী তরুনীকে নির্জনে পেয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে ভালোবাসার সর্বশেষ চর্চাটা করি তাহলে এটা নিশ্চিত আমি অনেক সুখ পাব। এবং এ সুখটা ধর্ম অনুমোদন না করলেও প্রকৃতি সমর্থন করে। এবং তাত্ত্বিকদের মতে এ সুখ জগতের শীর্ষসুখ (Orgasm) । এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, যে কাজটির কথা বললাম তা কি ভালো না মন্দ? যেহেতু কাজটি সুখ সৃষ্টি করে সুতরাং সিদ্ধান্তে আসা যায় কাজটি ভাল।

একজন হিরোইনসেবীকে মাদকটা থেকে বঞ্চিত করলে বিষয়টা তার জন্য সুখের পরিপন্থি। সুতরাং এই বঞ্চনার কাজটা অবশ্যই মন্দ।

২#“ আর কোন কাজ সুখ উৎপন্ন না করে যদি দুঃখ উৎপন্ন করে তাহলে তা মন্দ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং সে কাজ করা অনুচিত।”
এ কথাটিও ১# কথাটির এক রকম পুনরাবৃত্তি।
আমিতো বলি (মন্দ বা) পাপের মাঝেই সব সুখ। পাপকে সংগঠিত করার জন্য কোন সঞ্চালক বা পরিচালকের প্রয়োজন পড়ে না। এমন কি পৃথিবীতে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য কোন অবতার বা ক্যারিস্মেটিক লিডারের আবির্ভাব প্রয়োজন পড়ে না। মানুষ নিজ দায়িত্বে পাপ করে সুখ নিশ্চিত করার জন্য। আমি এখনো পর্যন্ত এমন কোন পাপ পাইনি যা সুখগামী না।

৩#“শারীরিক সুখের মত মানসিক সুখগুলো বেশী তীব্র নয়। ……….. শারীরিক সুখ তীব্র হলেও মানসিক সুখের স্থায়িত্ব বেশী এবং …………….“
এখানে সুখকে শারীরিক ও মানসিক এই দুই ভাগে ভাগ করায় আমি দুঃখ পেয়েছি। সুখ সব সময় অনুভব হয় মনে ( অর্থাৎ মস্তিষ্কে) এবং সুখের সিগনালগুলো সাধারণত দেহের মাঝে অবস্থান করা সেন্সরগুলো থেকে আসে । এই সেন্সরগুলোর মধ্যে নাক, কান, চোখ, ত্বক ও জিহ্বা বহুল ব্যবহৃত।

৪#“সুখী শূকরের চেয়ে, অসুখী সক্রেটিস হওয়া ভাল।”
এই কথাটির প্রতি প্রীতি দেখে আমি হতাশ। শূকর আর সক্রেটিসকে পাশাপাশি রাখলে সক্রেটিসের মনুষ্যত্ব কিংবা প্রজ্ঞা কোনটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। কিন্তু আমরা (বিশেষ করে আমি যে কি-না সক্রেটিসের Know thyself-এর ভক্ত ) এ উপস্থাপনাটাকে যথেষ্ট অসুন্দর মনে করি।
আর সত্যি যদি অসুখী সক্রেটিস হওয়া ভালো হয়, তাহলে অসুখী সক্রেটিসের বাণী আমরা যারা সুখের চিন্তায় পাগলপারা তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য। কেননা যিনি নিজে অসুখী, তিনি আমাদের সুখী করার ক্ষমতা রাখেন না।
কথাটিকে নিম্নরূপে পরিমার্জন করা করা হলে আমার হতাশা কেটে যাবে।
“দুর্নীতিবাজ সুখী আমলার হওয়ার চেয়ে সৎ অসুখী কামলা হওয়া ভাল”।
এই কথাটা ৪# কথার চেয়ে গ্রহণযোগ্য, তবে অবশ্যই কাম্য নয়।

৫#”ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্যগ্রহণের সুখ যতটা তীব্র, ততটা সুন্দর কোন প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুখ নয়।“
খুব সত্য কথা।

৬# “একটি ভাল খাবার স্বাদ গ্রহণের সুখের চাইতেও কোন প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুখের স্থায়িত্ব বেশী এবং তা উচ্চস্তরের সুখ। “
৫# ও ৬# পরস্পর অসমান্তরাল। ৬# কথাটাকে যে সম্প্রদায় সত্য ভাবে তাদের বলি, কথাটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভুল। রাজা-বাদশা কিংবা রাণী-সম্রাজ্ঞী যাদের কাছে বিলাসিতাই জীবন ( এবং ভাতকাপড়ের অভাবে জীবনের পুরো সময়টা যে কষ্টে কাটানো যায় সে বিষয়ে যাদের ধারণা নাই) শুধুমাত্র তাদের জন্য এ কথাটা অনেক সত্য।

(এবার সুখ নিয়ে টুকরো কিছু কথা বলব।)

জীবন-সুখের শেষ কথাঃ
আমরা আলো-বাতাসে প্রাণ ধারণ করি, সঙ্গ-সুখে জন্মি, মৃত্যু ভয়ে বাঁচি। সব শক্তির উৎস সূর্য, সব ভয়ের মূলে মৃত্যু-ভয়, সব সুখের আদিতে সঙ্গ-সুখ। এ সুখের টানে আমরা পৃথিবী সাজাই, ভালোবাসি, হাতে হাত রাখি, দেহ ভেদ করে অন্তরে প্রবেশ করি।

৩১-অক্টোবর-২০১২
ধানমন্ডি, ঢাকা।

পরিমার্জনঃ ১-জানুয়ারি-২০১৩
শিরোনাম পরিবর্তনঃ ২৩-জানুয়ারি-২০১৩