ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

সংখ্যাটা ১১
মৌলিক সংখ্যা, তার মানে রহস্যে ঘেরা। আমার কাছে সংখ্যা হিসেবে সবচেয়ে সুন্দর ৭, সবচেয়ে অর্থবহ ১ এবং সবচেয়ে গঠনমূলক ১১।

৭ সুন্দর, কারণ দিন ৭, রাত ৭ এমন কি রঙধনুর রঙ ৭।
পৃথিবীটা ওয়ান-ম্যান-শো। ১ অর্থবহ কারণ পৃথিবীর পরিকল্পনাবিদ ১ জন, যে কোন কর্মকান্ডের অগ্রপথিক ১ জন, এমন কি যে কোন হৃদয়ের প্রিয় মানুষও ১ জন।
১১ গঠনমূলক কারণ ওরা ১১ জন যখন ১ হয় দেশটা তখন স্বাধীন হয়।

তবে আমি যে ১১এর কথা এখানে উল্লেখ করলাম তা কোন ব্যাটেলিয়ন কিংবা টিমের সদস্য সংখ্যা না, এটি একটি তারিখ; সবুজ ব্লগটির জন্ম যে দিন সেই দিনের মহাজাগতিক চতুর্থ মাত্রা। প্রকৃতি বৈচিত্রের রহস্য এখানেও আমি খুঁজে পাই; অনাগত ১৭টি দিনের সাথে বিগত ১১ দিনের অনুপাত সোনালী অনুপাতের খুব কাছাকাছি। এখানে রহস্য আছে, তাই সৃষ্টি আছে, সৌন্দর্যও আছে।

বসন্ত আসলে যেমন ভালোবাসা আসে, তেমনি আলো আসলে আশা আসে। প্রিয় ব্লগ বিডিনিউজ২৪ যখন এলো তখন সম্ভাবনার সব আলো নিয়ে এলো।

সময়টা যেহেতু বর্ষপূর্তির (মতান্তরে বর্ষফূর্তির) তাই যে লেখাগুলো এখনো ভাবনায় অপেক্ষমাণ সেগুলোকে বিদায় জানিয়ে বার্ষিক সালতামামি লিখতে বসেছি।

এক সময় পৃথিবীর সেরা সুন্দর, সেরা আনন্দ আর সেরা কষ্টের তালিকা করেছিলাম। সেই তালিকা এখন বিলুপ্ত। এখন আবার নতুন তালিকা তৈরির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে; সালতামামিতে তালিকা না থাকলে তা না-কি বৈধতা পায় না। কে সেরা, কার বক্তব্য শ্রেষ্ঠ তার তালিকা প্রনয়ণ করতে হবে- এ রকম পরোয়ানা জারি আছে।

তালিকাটা প্রস্তুত করা শুরু করেছিলাম, কিন্তু কিছু দূর অগ্রসর হয়ে বুঝলাম সেরা লেখা নির্বাচন করা কঠিন এবং তার চেয়েও কঠিন সেরা লেখক নির্বাচন করা। তাই শেষ পর্যন্ত বিভ্রান্ত হয়ে নিজেকে স্থগিত রাখলাম। তবে বিকল্প কিছু করার স্বপ্ন দেখে রেখেছি অনেক আগেই। এখন তা বাস্তবে রূপ দেয়া শুরু করব।

ব্যক্তিগত অভিরুচি অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক প্রিয়দের তালিকা দিচ্ছিঃ

প্রতিপক্ষ ব্লগারঃ রীতা রায় মিঠু
যে বিষয়ে তিনি লিখেন সে বিষয়ে আমি যত্ন করে লিখলেও তার লেখাটাই আমার নন-ব্লগার বন্ধুরা বেশি পছন্দ করে।

বর্ণচোরা ব্লগারঃ প্রবাসী
মানুষটা সাঁচ্চা স্বদেশী অথচ নাম নিয়ে বসে আছেন প্রবাসী।

প্লেটোনিক ব্লগারঃ প্রামাণিক জালাল উদ্দিন
এই ব্লগে সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটোকে নিয়ে লেখার (এবং অবধারিতভাবে বলারও) সাহস ও যোগ্যতা রাখেন একমাত্র জালাল ভাই।

চোরাগুপ্তা ব্লগারঃ আইরিন সুলতানা
সহব্লগারদের লেখাগুলোকে শান দিয়ে বেড়ান আকস্মিক মন্তব্য জুড়ে। তিনি নীরব থেকেও অনেক সরব।

নিখোঁজ ব্লগারঃ জাহেদ-উর-রহমান
যে যারে চায় সে তারে পায় না। ভক্তরা তাকে চেয়েছিল কিন্তু তিনি ভক্তদের চাননি, তাই দূরে সরে গেছেন।

অতি-পাগল ব্লগারঃ পাগল মন
পাগল ২ প্রকার। এক ধরণের পাগল বুঝে যে সে পাগল, আরেক ধরণের পাগল বুঝে না যে সে পাগল। তবে তিনি এই ২ রকমের কোন প্রকারের মধ্যেই পড়েন না, কারণ তিনি জাতেও পাগল না, তালেও পাগল না। (নামে মাত্র পাগল।)

হ্যামিলিয়নের ব্লগারঃ জিনিয়া
কেউ কোন লেখায় প্রাণ দিতে ভুলে গেলে, তিনি মন্তব্যের তীর ছুঁড়ে সেই নিষ্প্রাণ লেখাটায় প্রাণ যুক্ত করে দেন। তিনি দূরে থেকেও অনেক কাছে।

দুর্নীতিবাজ ব্লগারঃ জুলজুব
এই লোকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। অভিযোগটা হলো তিনি প্রকাশ্য দিবালোকে কবিতার সরঞ্জাম দিয়ে গদ্য নির্মাণ করেন এবং ব্লগে তা অবলীলাক্রমে পোষ্ট করে দেন। পণ্যে ভেজাল বুঝতে না পেরে ভুলোমন ব্লগ পোষকগণ তা আবার প্রকাশও করে দেন। (দুদক এবং বিএসটিআই উভয় কর্তৃপক্ষের নিকট এই ভদ্রেলোক সন্দেহভাজন। )

অভিজাত ব্লগারঃ আব্দুল মোনেম
ক্লান্তিহীন; লাল, নীল,সবুজ হলুদ সব রঙের কালি দিয়ে লিখে চলেন। কালি শেষ হয়ে গেলে যন্ত্রের সারি সারি চাবিগুলোই শুধু সম্বল, তবুও তিনি সত্য প্রকাশে বিরতি গ্রহণে অপারগ।

সম্ভ্রান্ত ব্লগারঃ হৃদয়ে বাংলাদেশ
প্রমিথিউস মানুষকে সভ্য করেছে আগুন দিয়ে, তিনি ব্লগারদের আলোকিত করেছেন তারুণ্য দিয়ে।

প্রিয় ব্লগার: নুরুন্নাহার শিরীন
অনেক প্রিয় অথচ তার কোন প্রমান রাখিনি। করার কথা বন্ধুত্ব কিন্তু করি শত্রুতা।

পলাতক ব্লগারঃ নীল নির্বাসন
তিনি লোকালয় ছেড়ে গিয়েছিলেন ফেবুতে, তারপর এসেছিলেন ব্লগে; এখন সবশেষে শহর থেকে অনেক দূরে।

মন্তব্যসুলভ ব্লগারঃ যুগ্মভাবে জিনিয়া এবং হৃদয়ে বাংলাদেশ
সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত মতে একজন সংখ্যায় এগিয়ে, অন্যজন অনুপাতে এগিয়ে। ২১৮৯ সংখ্যক মন্তব্য ৩৫০ দিনে করে প্রথমজন অনুপাতে এগিয়ে। দ্বিতীয়জন ২৬৮২ সংখ্যক মন্তব্য ৫২৯ দিনে করে সংখ্যায় এগিয়ে। গড়পড়তা দিনে তরুণীটি ৬টি এবং তরুণটি ৫টি মন্তব্য করেন।

যুক্তিবাদী ব্লগারঃ জাফরুল হক ওরফে বোতল বাবা
তিনি নিশ্চুপ এবং নিদ্রারত। সবশেষে ছিলেন ব্লগের এই রণক্ষেত্রে। তিনি জানতেও পারলেন না জীবনটা যেমন ব্লগটাও তেমন।

এই ফাঁকে বোতল বাবাকে জানিয়ে রাখি,”Only speak when your words are more beautiful than silence.”(-Rael). এখন আপনার কথা বলাটা আপনার নীরবতার চেয়েও সুন্দর। ভুল আপনারও ছিল, আমাদেরও আছে। তাই বলে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে?

আর নীল ভাইকে বলি, আপনি কি এবার শেষ পর্যন্ত ব্লগ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের শেখ হয়েছেন। উপার্জনের তাড়া নেই। তেল তুলছেন, আর বিক্রি করছেন, আবার সময় করে ফূর্তিতেও মেতেছেন। (আপনার অনুরোধের লেখাটা লিখেছিলাম, কিন্তু জানাননি দৃষ্টিগোচর হয়েছে কি-না।)

এবার আসি যুগ্মভাবে প্রিয় হওয়া ব্লগারদের প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় জন যিনি কিনা অনেকের চেয়ে বেশি সূর্যোদয় দেখা যুবক তিনি প্রথমজনের গুরু, সুতরাং তাকে গুরুত্ব বেশি দেয়া প্রয়োজন; কিন্তু সমস্যা হলো প্রথম জনকে বঞ্চিত করলে সমানাধিকার বা সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ উঠবে। সবশেষে আমি চিন্তা করে দেখলাম বর্তমান পৃথিবীতে পুজিঁবাদ কিংবা সাম্যবাদ কোনটাই আর জনপ্রিয় না, এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় সুবিধাবাদ। তাই আমি এই মতবাদের আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে নারী-পুরুষ সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উভয় সম্প্রদায়কেই সেরা ঘোষণা করলাম। এবং সিদ্ধান্ত নিলাম পুরষ্কার প্রদান করব প্রথমে নারীকে এবং পরে পুরুষকে।

ব্লগীয় নোবেল পুরষ্কার ঘোষণাঃ
দেশজ প্রেমেঃ নুরুন্নাহার শিরীন
সবুজ তারুণ্যেঃ হৃদয়ে বাংলাদেশ
অবদানঃ কবিরা অহংকারী হয়, অথচ দেহমনে পূর্ণ কবি হয়েও অহংকার ভুলে ব্লগার হবার উদারতা দেখিয়েছেন; দেশকে ভালোবাসতে যেয়ে নিজেকে ভালোবাসতে ভুলে গেছেন। নিজের লেখা যত্ন নিয়ে লিখেন; সহব্লগারদের লেখা মনোযোগ সহকারে পড়েন; অ্যাপোলোর আলো ছড়িয়ে এই ব্লগটিকে রঙিন করেন। উৎসাহব্যঞ্জক ও গঠনমূলক মন্তব্য করে ব্লগারদেরকে তারুণ্যে উজ্জীবিত এবং ব্লগকে প্রেমে পরিশীলিত রাখেন।
পুরষ্কারের মেয়াদঃ অনন্তকাল
মেয়াদ শুরুঃ ১৪-ফেব্রুয়ারি

সবশেষে আমার চাওয়া
পৃথিবীটা দেয়া আর নেয়ার। আমার দেয়ার ছিল তাই পুরস্কার দিয়েছি। এবার আমার পাবার পালা। কারু কাছ থেকে কিছু পেতে হলে অর্জন করে নিতে হয় কিংবা চেয়ে নিতে হয়। তাই শেষ-নাই অভিযানের শুরুতেই কিছু চেয়ে নিতে চাই। মানুষের অর্থ-কড়ি থাকে সিন্ধুকে, প্রেয়সী থাকে দূরে, কিন্তু হৃদয়টা থাকে বুকের ভিতরে, সব সময়, বসন্তে এমন কি কালবোশেখিতেও। তাই আমি হৃদয়ের কারবারগুলো বাড়িয়ে দিতে চাই। সাথে রাখতে চাই জেগে থাকা স্বপ্নের সবগুলো রঙ। স্বপ্ন যা কি-না কল্পনার ডানা তা দিয়েই পৃথিবীর সব বাস্তবের শুরু। আমাদের যাত্রার শুরু আছে শেষ নাই।

৩-ফেব্রুয়ারি-২০১৩,ঢাকা