ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

কিছুদিন আগে বিডিনিউজ২৪ ব্লগে মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরীর লেখা একটি প্রতিবেদন “প্রসঙ্গঃ জাকির নায়েক ভূপাতিত, রমজান মাস ও রোজার স্বাস্থ্যগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় কুপ্রভাব”পড়লাম একটু দেরীতে। আমি কোন লেখক নই। সুন্দর সৃজনশীল লেখা আমার দ্বারা হবে না। সেজন্য প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী নিঃসন্দেহে একজন জ্ঞানী, মহাজ্ঞানী, গবেষক, ভাল লেখকও বটে। ওনার বিরুদ্ধে লেখার মতো দূঃসাহস আমার নাই। তথাপি দু‘একটি কথা না লিখে পাড়লাম না বিবেকের তাড়নায়।

“মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী” নামটি দেখেই বুঝা যায় একটি মুসলিম পরিবারে আপনার জন্ম। আপনার লেখনীর মাধ্যমে সেটাকে অস্বীকার করলেও নামের মাধ্যমে ইসলামের ঐতিহ্যকেই ধরে রেখেছেন। আপনার চরিত্র বদলালেও ইসলামের সেই ঐতিহ্যকে বদলাতে পারেননি। লেখার সূত্র ধরে জানতে পেরেছি আপনি একজন চিকিৎসক। চাকুরী করেন কিনা জানিনা, বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন কিনা তাও জানিনা। যদি দিয়ে থাকেন তাহলে, সেখানে আপনার ধর্মীয় পরিচয় কি মুসলিম লিখেছেন? নাকি নাস্তিক? চাকুরির ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন। যদি মুসলিম লিখে থাকেন, তাহলে বলতে হয়, আপনি আপনার নিজের সাথে এখনও প্রতারণা করে চলেছেন। আর যদি নাস্তিক লিখে থাকেন তাহলে এই প্রসঙ্গটি টানার জন্য দুঃখিত।

একটা সময় আপনার মনের ভিতর অসংখ্য প্রশ্ন উঁকি ঝুঁকি মারতে থাকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে, যেগুলো আপনার কাছে নিতান্তই কুসংস্কার বলে মনে হতে থাকে। আপনি শত গবেষনা করেও তার সঠিক জবাব বের করতে পারেননি। কারো কাছে প্রশ্ন করলেও, কেউ আপনাকে সঠিক জবাব দিতে পারেনি। শুধু এর ক্ষতিকারক দিকগুলোই আপনার কাছে প্রকাশিত হতে থাকে। আর তাই আপনাকে ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে উঠতে সহায়তা করে আপনার চিন্তা ধারা। দেখুন ভাই, এটা যদি হয়ে থাকে তাহলে এতে আপনার জ্ঞানের দৈন্য দশাই প্রকাশিত হয়মাত্র। কেমন করে? তার জবাব দিচ্ছি একটু পরে।

আপনি ডাঃ জাকির নায়েককে আপনার জ্ঞানের ভান্ডার দিয়ে একজন মূর্খ হিসাবে আখ্যায়িত করে ধরাসায়ী করেছেন। এমনকি ব্যাঙ্গ করতেও ছাড়েননি। চরমভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। কিছু বাহ্‌বাও কুড়িয়েছেন। বেশ ভাল! আল্লাহ আপনাকে জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন, আপনি তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করে জ্ঞানের অপব্যবহার করে চলেছেন। আপনার জ্ঞান আছে একথা ঠিক, কিন্তু জ্ঞানের গতিপথ উল্টোমুখী। সেটা কিরকম?

আপনি একজন চিকিৎসক, তাই চিকিৎসা দিয়েই শুরু করি। পেথিডিন চিকিৎসা জগতের একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। ১৯৬০ সালে ডাঃ পল জনসেন প্রথম ইহা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহার করেন এবং তাই পেথিড্রিনের আবিষ্কারক হিসাবে ইতিহাসের পাতায় তার নামটি সোনালী হরফে লেখা হয়ে যায়। আপনার মতো আরেক মহাজ্ঞানী আরো একধাপ এগিয়ে আবিষ্কার করলেন পেথিড্রিন একটি নেশার উপকরণ হিসাবে। সেই মরণ নেশা আজ মানব জাতির জন্য অভিশাপ। দুই আবিষ্কারকই জ্ঞানী সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না, কিন্তু একজন জ্ঞান প্রয়োগ করেছেন মানব কল্যাণে আরেক জন প্রয়োগ করেছেন মানব জাতি ধ্বংসের কাজে।

ঠিক তেমনি ডিনামাইট আবিষ্কারও ছিল আলফ্রেড নোবেলের একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। মানব কল্যাণেই ডিনামাইটের আবিষ্কার। কিন্তু আপনার মতো আরেক মহাজ্ঞানী আবিষ্কার করলেন এটাকে কিভাবে বোমা হিসাবে ব্যবহার করে মানব জাতি তথা স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে যদ্ধ-বিগ্রহ সৃষ্টি করা যায়।

একজন ঘুষখোর সব সময় চিন্তা করে, গবেষনা করে, কিভাবে, কত সূক্ষ্মভাবে ঘুষ খেলে সে ধরা পড়বে না। একজন চোর সব সময় চিন্তা করে, গবেষনা করে, কোন প্রক্রিয়ায়, কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চুরি করলে সে ধরা পড়বে না। আর একজন ভাল মানুষ সব সময় চিন্তা করে, গবেষনা ব্যস্ত থাকে কি করে মানব কল্যাণে ভূমিকা রাখা যায়। একজন মুমিন সবসময় গবেষনা করে কিভাবে নিজে ও সকল মুসলমানগণ দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি লাভ করবে। আপনি কোন কল্যাণে গবেষনা করছেন মিঃ মুশফিক? কেন আপনার জ্ঞান গবেষনা দ্বারা রোজার উপকারী দিকগুলো বের না হয়ে ক্ষতিকারী দিকগুলো বের হল, এবার বুঝা গেল।

ডাঃ জাকির নায়েকের চেয়ে আপনি মহাজ্ঞানী সেটা আপনি প্রমাণ করেছেন। খুব ভাল কথা। আমিও মেনে নিচ্ছি আপনি মহা জ্ঞানী। তাহলে আপনার কি উচিৎ ছিলনা, যেখানে জাকির নায়েক ঠেকে গেলেন, সমাধান দিতে পারলেন না, সেই বাকী কাজটুকু এগিয়ে নেওয়ার গবেষনা কাজে আপনার জ্ঞানকে ব্যবহার করা? তাহলেই তো আপনার জ্ঞানের মহিমান্বিতা প্রকাশ পেত। কিন্তু আপনি তা না করে আপনার জ্ঞানকে সেই পেথিডিন বা ডিনামাইটের অপব্যবহারের মতো বিপরীতমুখী কাজে ব্যবহার করলেন। এই একটি কারণেই আপনি আপনার মনে জেগে উঠা প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাননি। আপনার মতো মহাজ্ঞানী আর ঐ মহাজ্ঞানীর মধ্যে পার্থক্য কোথায়, যে মহাজ্ঞানী পেথিড্রিনকে নেশাকারক হিসাবে আবিষ্কার করেছে, যে মহাজ্ঞানী ডিনামাইটকে বোমা হিসাবে ব্যবহার করে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে? পার্থক্য কোথায় আপনার মাঝে আর ঐ ঘুষখোর বা চোরের মাঝে?

ধর্ম মানব জাতির মধ্যে সামাজিক শৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, আর আপনি সেই সামাজিক শৃঙ্খলাকে ভাঙতে আপনার জ্ঞানকে ব্যবহার করছেন। জ্ঞান তো আপনার আছে, কিন্তু জ্ঞানকে আপনি কি কাজে লাগাচ্ছেন সেটা নিয়ে ভাবতেও জ্ঞানকে একটু কাজে লাগান।

আপনার লেখার এক সমালোচক জানতে চেয়েছিলেন, আপনার মৃত্যুর পর লাশ কোন ধর্ম মতে সৎকার করা হবে। আপনি অতি সহজ সমাধান দিয়েছেন- লাশটি সৎকার করার কোন প্রয়োজন নাই। লাশটি মেডিক্যালে দান করে যাবেন, ভবিষ্যত শিক্ষার্থীদের জন্য। বাহ্ কি সুন্দর সমাধান। কিন্তু মিঃ মুশফিক, আপনি এই গ্যারান্টি কি করে দেন যে মৃত্যুর পর মেডিক্যালে আপনার লাশটি কোন কাজে আসবে? এমনও তো হতে পারে আপনার মতো জ্ঞানীদের আবিষ্কার কোন বোমা আপনার লাশটির এমন দশা করল যে, কয়েকটি টুকরা ছাড়া কোন অবশিষ্ট নাই। তখন মেডিক্যাল ঐ কয়েকটি টুকরা কি কাজে লাগাবে? আবার এমনও তো হতে পারে মৃত্যু আপনাকে এমন এক জায়গায় টেনে নিয়ে গেল যে, আপনার লাশটি পড়ে থাকল কোন আগাড়ে-বাগাড়ে। শিয়াল, কুকুর আর শকুন টেনে ছিঁড়ে খাবে। কোন মেডিক্যালের এজেন্টের সাধ্যে কি কুলাবে আপনার লাশটির হদিস বের করতে? আরো কত কিছুই তো ঘটতে পারে। নাকি নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই দেখতে শুরু করেছেন?