ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

তখন সন্ধ্যা ঘোর হয়ে রাতের পালা।কানাই বলল, ‘চল ঘুরে আসি।’আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাবি?কানাই বলল, ‘ধর্মতলা যাবো জলপাইগুড়ির একটা টিকেটের জন্য।’বুঝলাম আগামীকালই আমি বাঘা যতীন ত্যাগ করছি।

আমি তাড়াতাড়ি করে জামাকাপড় পড়ে নিলাম, কানাইতো আগেই রেডি। একটা ওটো চেপে গেলাম, ধর্মতলা উত্তরবঙ্গ বাসস্ট্যান্ডে। কিন্তু টিকেট আর কেনা হলো না। কারণ, তখন রাত হয়েছে বলে টিকেট কাউন্টার বন্ধ। টিকেট নিতে হলে কাউন্টারে আসতে হবে সকাল ১০টায়। গাড়ি ছাড়বে দুপুর ২টায়। তা-ই হবে, টিকেট সংগ্রহ সকালেই হবে বললো, ‘কানাই।’
অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরি করে রাত ১০টায় ফিরে এলাম বাঘা যতীন। সেদিন আমাদের ভাগ্যটা ভালোই ছিল। কেননা, বাংলাদেশ থেকে ভারতের বাঘা যতীন আসলাম অনেক দিন হলো। অনেক দিনের মধ্যে এই প্রথম, কানাইর বাড়িওয়ালার ঘরে রাতের খাবার কপালে জুটল। সবাই একসাথে বসেই রাতের খাবার খেয়েছি। খাবার শেষে বাড়িওয়ালাদের পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দিলাম, আগামীকাল বোনের বাড়ি চলে যাচ্ছি। সেই সাথে ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্যও মিনতি করেছি।
আমার কথা শুনে বাড়িওয়ালী খুশি হলেও, তার ছেলে-মেয়ে দুটি খুশি হয়নি। বলল, ‘দাদা সেখানে সমস্যা হলে আবার আমাদের এখানে চলে আসবেন।’
মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়ে কানাই সহ তাদের ঘর থেকে বেড়িয়ে এলাম।

সেদিন রাতে আর আমার ঘুম হয়নি। সারারাত শুধু ছটপট করেছি, নতুন জায়গায় যাবো বলে। দিদির বাড়ি নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। দিদির যখন বিয়ে হয়েছিল, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর। যা আমার মায়ের মুখ থেকে শোনা। আর এখন আমার বয়স ৩০ বছর পার হতে চলছে। দিদি আমার সামনে আসলে, আমি নিজেই দিদিকে চিনতে পারবো না। আর দিদি আমাকে চিনবে, এটাতো প্রশ্নই ওঠে না। শুনেছি আমার ভাগিনা ভাগ্নি ৪ জন। তারাও আমাকে চিনবে না। পরিচয় দেওয়ার পরও চিনবে না। এরকম ভাবতে ভাবতে কখন যে রাত ভোর হয়ে গেল, একটু টেরও পাইনি। সকাল হতে না হতেই, ঘুম থেকে ওঠে হাত মুখ ধুয়ে রেডি হয়ে আছি। অপেক্ষা শুধু কানাইর জন্য। সেদিন কানাইও খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠেছে। অন্যদিন ও আমার আগেই ঘুমথেকে উঠে আমাকে ঘুম থেকে ওঠায়। আমি মুখহাত ধুয়ে বাইরে গেলাম, চা-দোকানে।

কানাই ঘুম থেকে জেগে বুঝতে পেরেছে যে, আমি কোথায় আছি। ও মুখহাত ধুয়ে সোজা চা-দোকানে উপস্থিত। আমি তখন চা পান করছিলাম। কানাই আমার সামনে এসে দোকানদারকে এককাপ চা দিতে বললেন। ও আমাকে বলল, ‘তাড়াতাড়ি করে চা শেষ কর, টিকেটের জন্য যেতে হবে।’
ওর কথা শুনে একটু তাড়াতাড়ি-ই চা-পান করা শেষ করলাম। চেয়ের দাম দিয়ে রওনা হলাম, টিকেট সংগ্রহের জন্য ধর্মতলা। উত্তরবঙ্গের সরকারি লাল বাস, এই বাসগুলোকে সবাই বলে রকেট। বিশাল বড় গাড়ী। দেখতেও খুব সুন্দর। চলেও দ্রুতগতিতে। টিকেটের মূল্য ভারতীয় ২৬০টাকা। টিকেটের দাম কানাই নিজের পকেট থেকেই দিয়েছে। টিকেটের দামটা ও আর আমার কাছ থেকে নেয়নি। গাড়ি ছাড়ার সময় দুপুর ২ টায়। এর আগে থেকেই আমাদের গাড়ির সামনে হাজির থাকতে হবে। তখন সকাল ১১ টার মতো বাজে। তাড়াতাড়ি আবার চলে এলাম বাঘা যতীন।

বাঘা যতীন এসে তাড়াতাড়ি স্নান করে রেডি হয়ে গেলাম। বাড়িওয়ালার ঘরে তখনও দুপুরবেলার রান্না হয়নি। বেলা ২ টার আগে আর রান্না হবার সম্ভাবনাও নেই। এটা কানাইও টের পেয়েছে। ও বুঝতে পেরেছে, আমাকে না খেয়েই রওনা দিতে হবে। তাই কানাই তাড়াতাড়ি করে একটা দোকান গেল। দোকান থেকে আমার জন্য একটা পাউরুটি কিনে আনল। যাতে কিছু না খেয়ে ঘর থেকে বাইর না হই। ঠিক দুপুর ১২টার সময় অর্ধেকমত রুটি খেয়ে রেডি হলাম। কানাইর দু’বোন ঘরের বাইরে অপেক্ষা করছে, বিদায় জানানোর জন্য। ওদের মনটাও খুব খারাপ হয়ে আছে। তা ওদের মুখের দিকে চেয়েই বুঝতে পেরেছি।

সাথে আছে বাড়িওয়ালার পরিবারবর্গ। বাড়িওয়ালী বলল, ‘সেকি বাবা, কিছু মুখে না দিয়ে চলে যাচ্ছো? একটু অপেক্ষে করলেই-তো দুপুরের খাবারটা সেরে, রওনা দিতে পারতে।’
আমি বললাম, না মাসিমা তা আর দরকার নেই, আমি খেয়েছি। এবার আমাকে হাসিমুখে বিদায় দিন।
সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাইর হলাম। একটা অটো চেপে আসলাম ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড। তখন সময় ১টা। গাড়ি তখনও স্ট্যান্ডে আসেনি।
আসবে ঠিক টাইম মতো। এই ফাঁকে দুইজনে গেলাম কানাই’র পরিচিত একটা দোকানে। দোকানটা হলো শাড়ি কাপড়ের দোকান। কানাই আমার দিদির জন্য একটা শাড়ি কিনে দিয়ে বলল, ‘এটা দিদিকে দিবি। হাত খালি, নাহয় জামাইবাবুর জন্যও একটা কিছু দিতাম।’
আমি আর কিছু বলিনি, চুপচাপ শাড়িখানা ব্যাগের ভেতর ঢুকাইলাম। এরপর তাড়াতাড়ি করে চলে এলাম বাসস্ট্যান্ড। এসময়ের মধ্যেই বাস রেডি হয়ে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরেই স্ট্যান্ড ত্যাগ করার প্রস্তুতি চলছে। কানাই আমাকে নিয়ে বাসে উঠে সিটে বসিয়ে দিল। আর যাবার পথে রাস্তার করনীয় বিষয়াদি কী কী, তা বুঝিয়ে দিল। ঠিক টাইম মতোই বাস স্ট্যান্ড থেকে বীরপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল।

কোলকাতা শহর পার হবার পরপরই শুরু হলো জ্যাম। কী কারণে যে, এই জ্যামের সৃষ্টি তা আর বুঝতে পারিনি। আর আমি বুঝবো-ই-বা কেমন করে। আমিতো সেখানে অতিথি মাত্র। রাত ১০টায় গিয়ে পৌঁছলাম চব্বিশ পরগনা কৃষ্ণনগর বাসস্ট্যান্ড। বাস থামলো একটা বড় হোটেলের সামনে। একএক করে বাসের সব যাত্রী নামল, সাথে আমিও নামলাম। এই কৃষ্ণনগর বাসস্ট্যানন্ডে যাত্রীদের খাবারের হোটেল অনেক আছে। রাস্তার এপারওপারে অনেক রাত্রিকালীন দোকানও চোখে পড়লো। বাস থেকে নেমেই দেখাছি, সবাই যারযারমত বিভিন্ন হোটেলে ঢুকছে। আমিও একটা হোটেলে ঢুকে, আমার পছন্দমত কিছু খেলাম। সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা যাত্রা বিরতির পর, আবার রওনা দিল বীরপাড়ার উদ্দেশ্যে। সারারাত বাসেই বসেবসে ঝিমলাম। মাঝেমধ্যে কয়েকটা জায়গায় ভারতীয় বিএসএফ গাড়ি তল্লাসি করেছে। তবে আমি তেমন কোনও ঝামেলায় পরিনি। আর পরবো-ই-বা কেন? আমার ভাষা একেবারে কোলকাতার মানুষের মতো। তাই পাসপোর্ট বিহীন হলেও, মনে সাহস ছিল অনেক বেশি।

পরদিন দুপুর ১২টার সময়, গিয়ে পৌঁছলাম শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি হলো, দার্জিলিং জেলার একটা শহর। এই শিলিগুড়ি হয়েই দার্জিলিং, নেপাল, ভুটান যাওয়ার রাস্তা। শিলিগুড়ি যাত্রাবিরতি হবে প্রায় ১ঘণ্টার মতন। এতো অনেক সময়। অনেকে আবার বাসস্ট্যান্ডের সাথে থাকা মার্কেটও যাচ্ছে, কিছু কেনাকাটা করার জন্য। সেখানে বাথরুম করে, চা-বিস্কুট খেয়ে আবার বাসে গিয়ে বসলাম। সময়মত বাস শিলিগুড়ি থেকে ছেড়ে যাচ্ছে বীরপাড়ার উদ্দেশ্যে। তখন বাসের ভেতরে যাত্রীর সংখ্যা আমাকে নিয়ে হবে ১০ থেকে ১২ জনের মতন। বীরপাড়া যেতে সময় লাগল, প্রায় দেড় ঘণ্টার মতন। বীরপাড়া পৌঁছলাম দুপুর ২টায়। বীরপাড়া হলো, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার একটা থানা এলাকা। এই জায়গাটির সাথেই মিশে আছে ভুটান। ভুটানের পাহাড় ঘেঁষা সমতলভূমি, আর চাবাগানের জন্য বিখ্যাত এই বীরপাড়া। বীরপাড়া বাজারটি ভারতের হলেও, এই বাজারে বেশিরভাগ দোকানদার, আর খরিদদার হলো ভুটানি। মোট জনসংখ্যার মধ্যে একতৃতীয়াংশ ভুটানি আর নেপালি। মোট কথা ওই এলাকায় এই দুই দেশের মানুষের-ই রাজত্ব।

এখানে ভারতীয় টাকা, আর নেপালি, ভুটানি টাকার মান সমান সমান। ভারতীয় টাকার চাইতে ভুটানের টাকাই বেশি চলে। বাস থেকে নামলাম। আমার সাথে কেবলমাত্র একটা ব্যাগ। ব্যাগটা কাধে নিয়ে বীরপাড়া বাজারের দিকে যাচ্ছি, কিছু মিষ্টি কেনার জন্য। জীবনে এই প্রথম বড়দিদির বাড়িতে আসা। খালি হাতে যাওয়াটা কেমন যেন ভালো দেখায় না। তাই যাচ্ছি কেজি দুএক মিষ্টির জন্য। সাথে টাকার সংখ্যাও বেশি একটা নেই। তবুও খালি হাতে যাওয়া যাবে না। গেলাম একটা মিষ্টির দোকানে। জিজ্ঞেস করলাম, প্রতি কেজি মিষ্টির মূল্য কত? দোকানদার বলল, প্রতি কেজি মিষ্টি ২৫ টাকা। মনে মনে বলছি, বাঁচা গেল। আমার সাথে যেই টাকা আছে, তা দিয়ে বেশ হয়ে যাবে। দোকানদারকে বললাম, চার কেজি মিষ্টি দিতে। চার কেজির কথা শুনে দোকানদার আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘আজ্ঞে দাদা ঠিক করে বলুন ক’কেজি মিষ্টি নিবেন?’
দোকানদার অবাক হবার কারণ, সেখানে এক কেজি মিষ্টি একসাথে কেউ কিনে না। আর আমি চাচ্ছি চার কেজি! বিরাট ব্যাপারস্যাপার মনে হচ্ছে, দোকানদারের কাছে। তাই আমাকে ফের জিজ্ঞাসা, ‘ঠিক করে বলুন ক’কেজি নিবেন?’
আমি আবারও বললাম, আমাকে ভালো দেখে চার কেজি মিষ্টি মেপে দিন। আমি আপনাকে মোট মুল্য হতে ১০টাকা কম দিব। আমার কথা শুনে দোকানদার হেসে বললেল, ‘তা দিবেন দাদা, তো আপনি যাবেন কোথায় শুনি?’
আমি বললাম, আমি রবীন্দ্র নগর কলোনি যাব।
দোকানদার মিষ্টি মাপছে, আর আমকে জিজ্ঞেস করছে, ‘রবীন্দ্র নগর কলোনিতে আপনার কে থাকে দাদা?’
আমি বললাম, আমার বড়দি। আবারও প্রশ্ন, ‘আপনার বড়দি’র স্বামীর নাম কী দাদা?’
বললাম, আজ্ঞে, অমূল্য রতন পাল। আপনি কি চেনেন?
দোকানদার, ‘আপনার জামাইবাবু কী করে?’
বললাম, শুনেছি তামাকের ব্যবসা করে দাদা। তাও অনেক অনেক বছর আগের কথা। এখন যে কী করে, তা সঠিকভাবে বলতে পারছি না।আপনি কি চেনেন?
দোকানদার, ‘আজ্ঞে কী বললেন, তামাকের ব্যবসা? আপনার ভাগিনা ভাগ্নিদের বাম জানেন? জানলে বলুন।’
বললাম, ওরা তিন ভাই এক বোন দাদা। ওদের নাম: উত্তম, গৌতম, অষ্টম ও অনিমা।
দোকানদার, ‘আ-রে দাদা আপনার জামাইবাবুকেতো সবাই রতন পাল নামে ডাকে। আপনার দুই ভাগিনা গ্রেজে কাজ করে। এক ভাগিনা গাড়ির বড় মিস্ত্রি। আপনার বাড়ি মনে হয় বাংলাদেশ।?’
আমি আর দোকানদারের সাথে মিথ্যা বলতে পারলাম না। আমি বললাম, হ্যা দাদা আমার বাড়ি বাংলাদেশ। আমি আজ থেকে ১৫ দিন আগে একটা কাজের আশায় কোলকাতা এসেছিলাম। কাজটা হতে একটু সময় লাগবে, তাই দিদির বাড়ি আসা।
দোকানদার আমার কথা শুনে বললেন, ‘বসেন বসেন, আগে কিছু খাবার খেয়ে নিন। আমি সাথে করেই আপনাকে আপনার দিদির বাড়ি পৌঁছে দিব।’
এই বলেই দুটি মিষ্টি একটা প্লেটে করে আমার সামনে এনে দিয়ে বললেন, ‘আজ্ঞে দাদা ঝটপট খেয়ে ফেলুন। আমি রিকশা দেখছি।’ আমি তখন অপরিচিত জায়গায় অপরিচিত লোক হলেও, আমি খুশিতে বসে বসে মিষ্টি খাচ্ছি। মনে অনন্দও লাগছে, আবার চিন্তাও লাগছে। চিন্তা শুধু একটাই। তা হলো, যদি বড়দি আমাকে না চেনে? যদি তাদের বাড়িতে জায়গা না দেয়? যদি আবার কোলকাতা ফিরে যেতে হয়? এসব বিষয় নিয়েই চিন্তা। তারপরও ভয় পাচ্ছি না। কারণ, এসেছি যখন একটা বিহিত হবেই হবে। এই মনোবল নিয়েই মিষ্টি দুটি খাচ্ছি জোরেশোরে। খেতে খতেই দোকানদার রিকশা নিয়ে দোকানের সামনে হাজির হলো। রিকশাওয়ালাও আমার জামাইবাবুকে ভালো করে চেনে জানে। দোকানদার আমাকে বলল, ‘দাদা এই রিকশাওয়ালা আপনার জামাইবাবুর বাড়ি নিয়ে যাবে। ও খুব ভালো করে আপনার জামাইবাবুকে চেনে। পরিচিত রিকশাওয়ালা যখন পেয়েছি, সাথে আর আমার যেতে হবে না।’

আমি আমার পকেট থাকে ভারতীয় একশো টাকার একটা নোট বের করে, দোকানদারের হাতে দিকাম। দোকানদার বললেন, ‘এই টাকা থেকে আপনাকে আর টাকা ফেরৎ দিচ্ছি না দাদা। আপনার রিকশা ভাড়া আর দিতে হবে না। ওর ভাড়া আমি দিয়ে দিব।’
এই কথা বলেই রিকশাওয়ালাকে বলল, ‘শোন বাপু, তুমি সাবধানে রতন পালের বাড়ি যাবে। বাড়ি গিয়ে, তার স্ত্রীর কাছে এই লোককে পৌঁছে দিবে। জয়বাংলার লোক। এখানে নতুন। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে তুমি বাপু আমার কথা বলে দিও।’
রিকশাওয়ালা আমার কেনা চার কেজি মিষ্টি দোকান থেকে এনে, তার রিকশার উপরে রাখল। আমি দোকান থেকে রিকশায় গিয়ে বসলাম। দোকানদার আমকে বললেন। ‘সন্ধ্যার পর এখানে আসলে আমার দোকেনে আসবেন দাদা। আমি খুবই খুশি হবো।’ আমি বললাম, ঠিক আছে দাদা আসবো, কথা দিলাম। এই বলেই রিকশাওয়ালাকে বললাম, আপনি এবার আমার দিদির বাড়ির দিকে যাত্রা করেন। রিকশাওয়ালা ট্রিং ট্রিং করতে করতে রবীন্দ্র নগর কলোনির দিকে যাচ্ছে।
ফাঁকা রাস্তা। গাড়ি নেই। নেই কোনও যানজট বা জ্যাম। রাস্তার দুই দ্বারে বড়বড় পুরানো গাছ। পুরো এলাকায় রিকশাও হবে হাতে গোনা কয়েকটা। রিকশাও বেশি সুন্দর না। কোনরকমভাবে তিনটে চাকা লাগানো আছে। হুকবডি নেই বললেই চলে। যেতে যেতে রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম, তার দৈনিক ইনকাম কত? প্রত্যুত্তরে বলল, ‘সারাদিনে ১৫থেকে২০ টাকার মতো কাজ হয়। এই টাকা দিয়েই তার সংসারে চারজন খানেওয়ালার খরচ। অভাব নেই, এই টাকা দিয়েই তার ছোট সংসার খুব সুন্দরভাবে চলছে। রিকশাওয়ালা আমাকে বলছে, ‘ওই যে রবীন্দ্র গ্নগর কলোনি দেখা যাচ্ছে।

চলবে…