ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

রিকশাওয়ালা আমাকে বলছে, ‘ওই যে রবীন্দ্র নগর কলোনি দেখা যাচ্ছে।’

রিকশা চড়ে যাচ্ছি, রবীন্দ্র নগর কলোনির দিকে। রাস্তার দু’পাশে বড়বড় নানারকম পুরানো গাছ। ইটপাটকেলের তৈরি দালানঘর খুব কম। যা দেখা যায়, প্রায় সবই বাঁশ ও কাঠের তৈরি টিনের ঘর। মাঝেমাঝে ভুটানিদের কাঠের টংঘর। টংঘরের নিচে শুকর, ভেড়া, মুরগির খামার। উপরে ভুটানিদের বসবাস। ঘরগুলো দেখতে খুবই সুন্দর। চারদিক নানারকম ফুলগাছ লাগানো। বাড়ির চারদিক সুপারি গাছ সহ নানারকম ফলফলারি গাছ। অন্যান্য গাছের মধ্যে সেখানে সুপারি গাছই বেশি। হঠাৎ রাস্তার পাশে থাকা একটা দোকানে আমার চোখ পড়লো। দোকানঘরটি খুব সুন্দর। একটি মেয়ে দোকানে বসা। পঢ়নে লাল জামা আর তোয়ালের মতন গাগরি। এই পোষাক ওদের ঐতিহ্যবাহী পোষক। একে-তো সাদা চামড়ার মানুষ, তার পরে লাল জামা। দেখে মনে হচ্ছে গোধূলি লগ্নের লাল টুকটুকে সূর্যটা। রিকশাওয়ালাকে বললাম, ভাই এই দোকানে কি সিগারেট পাওয়া যাবে?

রিকশাওয়ালা বলল, ‘আজ্ঞে দাদা আপনার সিগারেট দরকার? সামনে আরও অনেক দোকান আছে। সেখান থেকে নাহয় নিয়ে নিবেন?’
আমি জোর অনুরোধ করে বললাম, দাদা এই মেয়েটির দোকান থেকেই নিয়ে নেন। আমার খুব সিগারেটের নেশা পাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টি খেয়েছি-তো, তাই এখন সিগারেটের প্রয়োজন। না হলে আমার বমি বমি ভাব হচ্ছে। আমার কাছে একটি সিগারেটও নেই। যদি দয়া করে এই দোকানটার সামনে একটু রাখতেন, তাহলে আমি এক প্যাকেট সিগারেট কিনে নিতাম।
_আচ্ছা দাদা ঠিক আছে, তা-ই হবে।

রিকশাওয়ালা দোকান ছড়ে একটু সামনে গেলেও, আমার কথা শুনে আবার দোকানের সামনে আসলো। রিকশাওয়ালা দোকানে থাকা মেয়েটিকে হিন্দিতে জিজ্ঞেস করল, ‘দিদি আপকা কাছ সিগারেট হ্যায়?
মেয়েটি বলল, ‘কিসকা সিগারেট চাইয়ে, ও ভাই, সিগারেটকা নাম বাতাইয়ে?’
ওখানকার মানুষে ভারতের প্রায় সকল ভাষাই জানে। যখন যেই ভাষা দরকার, সেই ভাষাই তারা ব্যবহার করে। আমার যদিও হিন্দি ভাষা জানা নেই, তবু একটু আধটু বুঝি। তবে বলতে পারি না। রিকশাওয়ালা আর মেয়েটির কথা শুনে রিকশাওয়ালাকে বললাম, দাদা দোকানদার মেয়েটি কি বাংলা জানে না?
_জানে দাদাবাবু জানে। ওরা নেপালি। ওদের নিজস্ব ভাষা আছে। তারপরও আমাদের ইন্ডিয়ার সব ভাষাই ওদের জানা আছে। তবে দাদাবাবু ওরা বেশিরভাগ হিন্দি, নেপালি, আর ভুটানি ভাষাই ব্যবহার করে থাকে। এখন বলুন, আপনি কী সিগারেট কিনবেন?

আমি রিকশাওয়ালাকে বললাম, এখানকার সিগারেটের নামতো আমি জানি না দাদা। আপনি ভাল এবং বেশি দামি এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে নেন।

সিগারেট আমার কাছে থাকা সত্বেও, মেয়েটিকে একটু ভাল করে দেখার জন্য এই ভাণ করা। রিকশাওয়ালা আমাকে বলল, দাদাবাবু আপনি রিকশা থেকে নেমে দেখিয়ে দিন। এখানে অনেকরকম সিগারেট আছে। আপনি যেটা চাইবেন, ঠিক ওটাই আপনাকে দিবে। আমি রিকশাওয়ালার কথা শুনে রিকশা থেকে নেমে দোকানের সামনে গেলাম। দেখি দোকানে চায়ের ব্যবস্থাও আছে। দোকানে সাজানো আছে, ভারতি, নেপালি, আর ভুটানি মদের বোতল। তবে ওখানে ভুটানের মদ-ই বেশি চলে। সেখানে রাস্তাঘাটে, হাটবাজারে সবখানে বসেই, মদপান করা যায়। এমনকি চলন্ত বাসে বসেও অনেকে মদপান করে থাকে। কেউ কাইকে কিছু বলার সাহস পায় না। তবে ওরা যতই মদ্যপ হোক না কেন, মাতলামি খুব কম করে থাকে। আর যেকোনো পূজাপার্বণে মানুষের ফ্যামিলি বাসায়ও, সবাই মিলেমিশে মদপান করে থাকে। কী ছেলে, কী বুড়ো। মদ যেন তাদের পূজার প্রসাদ। মদ ছাড়া ওখানকার মানুষের কোনকিছু শুদ্ধ হয় না।
রিকশাওয়ালাকে বললাম, দাদা আপনার চায়ের অভ্যাস আছে?
_হ্যা দাদাবাবু আছে। আপনি আমাকে চা খাওয়াবেন?
ওখানে কেউ কাউকে সহজে এক কাপ চা, অথবা একটা পাতার বিড়িও দেয় না। নিজের পকেটে বিড়ি থাকতেও, পরের কাছ থেকে বিড়ি চেয়ে টানে। রিকশাওয়ালা তাই খুশিতে আমকে জিজ্ঞেস করছে, ‘দাদাবাবু আপনি আমাকে চা খাওয়াবেন?’
_হ্যা, খাওয়াবো মানে? নিশ্চয় খাওয়াবো। মেয়েটিকে বলুন আমাদের দুই কাপ চা বানিয়ে দিতে।
_দিদি আগে আমাদের দু’কাপ চা বানিয়ে দিন। পরে নাহয় সিগারেট দিবেন।
এবার রিকশাওয়ালা মেয়েটির সাথে বাংলা ভাষায় কথা বলছে। তার মানে হলো, রিকশাওয়ালা আমাকে বুঝিয়ে দিল যে, মেয়েটিও বাংলা কথা বোঝে বা জানে।
প্রত্যুত্তরে মেয়েটি বলল, ‘ঠিক আছে দাদা, একটু বসেন। আমি আপনাদের চা বানিয়ে দিচ্ছি।’

আমরা দুজনেই দোকানের ভেতরে একটা টেবিলের পরে বসলাম। মেয়েটি চা বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানকার চা বানানোর খুব সুন্দর সিস্টেম। যা হবে তা নগদনারায়ণ। মেয়েটি একটা পাত্রে কিছু পরিমাণ তরল দুধ একটা পাত্রে ঢেলে, কেরোসিনের জ্বলন্ত স্টোভের উপরে রাখলো। অল্পকিছুক্ষণের মধ্যেই দুধ গরম হয়ে গেল। তারপর সেই গরম দুধে চা-পাতা আর চিনি মিশিয়ে দিল। ছাকনি দিয়ে ছেঁকে দুই কাপ চা দুইজনকে দিল, আমরা পান করলাম। বেশ মজাদার চা। গরুর খাটি দুধ দিয়ে তৈরি চা। তাও কাঁচা চা-পাতার তৈরি। এই চায়ের স্বাদই আলাদা। প্রতি কাপ চায়ের মূল্য ভারতীয় ৬০ পয়সা। এক প্যাকেট সিগারেট নিলাম, দাম মাত্র ১০টাকা। সিগাটের নাম, চার্ম। ফিল্টার কিং সিগারেট। সেখানকার লোকেরা এতো দামি সিগারেট খুবই কম মানুষেই টানে। সবাই হিসেব করে চলে। অকারণে অযথা কেউ একটি কানাকড়িও খরচ করে না। তাদের ধূমপানের মধ্যে বেশি প্রিয় হলো, পাতার বিড়ি। সে হোক ধনির দুলাল, হোক সে ফকির। বেশিরভাগ মানুষেই পাতার বিড়ি টানে। কারোর সম্মান অসম্মানের দিকে কেউ তাকায় না। সবাই সবার নিজের ধান্ধায় মশগুল।

নেপালি মেয়েটিকে ১১.২০ টাকা দাম দিয়ে, আবার ওঠলাম রিকশায়। আসার সময় দোকানদার মেয়েটি রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করল, ‘ভাই আপনার রিকশায় লোকটির বাড়ি কোথায়?’
রিকশাওয়ালা জবাব দিল, ‘বাংলাদেশ দিদি বাংলাদেশ।’
_হুম খুব ভালো লোক। তো যাবে কোথায়?
_দিদি, উনি যাবে রবীন্দ্র নগর কলোনি। ওনার বড়দিদির বাড়িতে। কোলকাতা থেকে এসেছে কেবল।
আমি রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি বাংলাদেশ বাংলাদেশ বললেন? আপনি কীভাবে জানেন যে, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি?
_আজ্ঞে দাদাবাবু, নেপালি মেয়েটি আপনার কথা জিজ্ঞেস করেছে, আপনার বাড়ি কোথায়? তাই বললাম বাংলাদেশ। আর আপনার বাড়ি বাংলাদেশ, তা আমি জেনেছি, ঐ মিষ্টি দোকানদারের কাছ থেকে। তিনি আমাকে বলেছে, আপনার বাড়ি বাংলাদেশ, তাই বললাম দাদাবাবু। আমি রিকশাওয়ালাকে আর বেশি কিছু বলিনি। রিকশা চলছে। মেইন রোড ছেড়ে মহল্লার আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে। যাচ্ছে রবীন্দ্র নগর কলোনির দিকে। আমার মনের ভেতরে অনেক চিন্তা। শুধুই ভাবছি, আমার দিদি, জামাইবাবু ও ভাগিনা ভাগ্নিদের নিয়ে। দিদির সামনাসামনি গিয়ে, কীভাবে পরিচয়টা দিলে ভাল হবে, সেই চিন্তাই আমার মনের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে।

দুপুর শেষে বিকালের আগমন। চাবাগানের চা-পাতা তোলার মহিলারা আসছে। সেখানকার মানুষে তাদের বলে বাগানী। বাগানীরা আসছে চাবাগান থেকে, চা-পাতা সংগ্রহ করে। এদের সবার পেছনে ঝুলানো আছে, চা-পাতার ঝুড়ি। চাবাগানে চা-পাতা সংগ্রহে নিয়োজিত থাকে বিহারের আদিবাসী মানুষগুলো। সেসব জনগোষ্ঠীদের সেখানকার ভাষায় বলে, মদোসিয়া। এদের গায়ের রঙ কালো কুচকুচে কালির মতন। দেখতে হুবহু নিগ্রোদের মতন। যা দেখলাম, রিকশা দিয়ে আসার সময়। আমার চোখে তারা কালো বর্ণের হলেও, তাদের চোখে তারা খুবই সুন্দর। এই কালো বর্ণের মাঝেও নাকি সুন্দরী মেয়ে অনেক আছে। এরা বেশিভাগ সময়-ই নেশার তালে মগ্ন থাকে। পথেঘাটে, পূজাপার্বণে, হাটা চলায় সবসময়, সবখানে এরা মদপান করবেই। মদ ছড়া ওদের যেন উদ্ধার নেই। এরা রাস্তার পাশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে লাইন ধরে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছে। আগে যাবে হয়তো তাদের কারখানায়। সারাদিনের সংগ্রহ করা চা-পাতা কারখানায় বুঝিয়ে দিয়ে, পরে হয়তো নিজেদের ঘরে যাবে। এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে একসময় পৌঁছে গেলাম রবীন্দ্র নগর কলোনিতে।

রবীন্দ্র কলোনির মাঝখান দিয়ে রাস্তা। রিকশা যাচ্ছে রবীন্দ্র নগর কলোনির গলি দিয়ে। পুরো রবীন্দ্র নগর কলোনিতে দুইটা গলি। গরমের দিন, কিন্তু আকাশ পরিষ্কার। বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা নেই। ভুটান সংলগ্ন এলাকা। সন্নিকটে ভুটানের সুউচ্চ পাহাড়। সেখানে বৃষ্টির দিনে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। রবীন্দ্র নগর কলোনি বীরপাড়া বাজার থেকে সামান্য একটু দূরে। এই রবীন্দ্র নগর কলোনিতে আগে চাবাগানের কিছু উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বাসভবন ছিল। হয়তো কারোর নাম রবীন্দ্র ছিল। তাই এর নামকরণ হয়েছে রবীন্দ্র নগর কলোনি। অনেক আগে থেকেই চাবাগানের ওইসব কর্মকর্তাদের বাসভবনের আশেপাশে বহিরাগতের বসবাস শুরু হয়। এখন চাবাগানের সেসব কর্মকর্তা আর এখানে নেই। আছে উড়ে এসে জুড়ে বসা মানুষের বসবাস। আমার বড়দিদিও এখানে উড়ে আসা এক বাসিন্দা। তবে এই রবীন্দ্র নগর কলোনিতে বর্তমানে যারা বসবাস করছে, তাদের সবাই নিজস্ব জায়গার মালিক বনে গেছে। সরকারকে টেক্স দিচ্ছে, পানির বিল প্রতিশোধ করছে, বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে। নিজেদের জায়গা কেনাবেচাও করছে, এই রবীন্দ্র নগর কলোনিতে থাকা মানুষজন।

রবীন্দ্র নগর কলোনির পশ্চিম পাশে চাবাগান। এই চাবাগানটির শেষ খুঁজে পাওয়া বড়ই মুশকিল। বিশাল আওতা জুড়ে এই চাবাগনটি। পূর্বদিকে বীরপাড়া টু ভুটান (গুমটু) মেইন রোড। উত্তরে বাজার অভিমুখী পথ। দক্ষিণে শিলিগুড়ি টু মিজোরাম মেইন রোড়। এই শিলিগুড়ি টু মিজোরাম মেইন রোডের দুপাশে রয়েছে, মাইলের পর মাইল চাবাগান। আমার বড়দিদির বাড়ি থেকে চাবাগানের দূরত্ব হতে পারে ৫০গজ। রিকশা থামলো আমার বড়দিদির বাড়ির গেইটে। গেইট তখন লাগানো। হয়তো বাড়ির ভেতরে সবাই ঘুমিয়ে ছিল। রিকশাওয়ালা গেইটে টোকা দিয়ে বলছে, ‘কে গো, বাড়ির গেইট খুলুন। দেখুন বাংলাদেশ থেকে আপনাদের অতিথি এসেছে।’
বাংলাদেশ বলতে দেরি, আর গেইট খুলতে দেরি নেই। গেইট খুলেছে আমার বড়দি। আমি তখনো রিকশায় বসে বসে এদিকওদিক তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি। আমার বড়দি রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করছে, ‘কে? কার বাড়ির অতিথি গো?’
রিকশাওয়ালা বলল, আজ্ঞে দিদি, উনি বাংলাদেশ থেকে এসেছে। মনে হয় আপনার ভাই।’

আমি তখন আমার বড়দিদির দিকে তাকাইলাম। আমার মায়ের চেহারা আর আমার বড়দিদির চেহারা একইরকম। আমার মনে হচ্ছিল যে, স্বয়ং মা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি রিকশা থেকে নেমেই, বড়দিদিকে নমস্কার করলাম। আমার বড়দিদির নাম: রাধা রানী। সবাই রাধু রাধু বলেই ডাকতো।
দিদি আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। আমি বললাম, রাধু দিদি, আমি আপনার ছোটভাই নিতাই। এই কথা বলার সাথে সাথেই, দিদি আমাকে ধরে অঝোরে হাউমাউ করে কাঁদছে। মুহূর্তেই বাড়ির সামনে পিছনের সলক নারীপুরুষ জড়ো হয়ে গেল। ঘর থেকে জামাইবাবু বাইর হয়ে আসলেন। ভাগিনা আসলেন, ভাগ্নি আসলেন। দিদি জিজ্ঞেস করলেন আমার বড়দাদার কথা। বললাম, বড়দাদা ভালো আছে দিদি। দাদাতো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একবার আপনাদের বাড়িতে এসেছিলেন। এবার আমার বড়দিদি আমাকে ঠিকঠিক চিনেছে। এবার হুশ হয়েছে। এতক্ষণ হয়তো মনের ভেতরে একটু গণ্ডগোল ছিল। কারণ, আমার বড়দিদির যখন বিয়ে হয়, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর। আর এখন আমি প্রায় ৩০ বছরের একজন জবরদস্ত পুরুষ মানুষ। আমি বুঝের হয়ে আমার বড়দিদিকে কোনদিন দেখিনি। আর দেখবো-ই-বা কেমন করে? বড়দিদির বিয়ে হবার ১৫ দিন পরই, তারা সপরিবারে ভারত চলে আসে। এই আসাই এপর্যন্ত। আর আমি বড়দিদির সামনে এসেছি প্রায় ২৯ বছর পর। দিদি বলছে, ‘আয় আয়, বাড়ির ভেতরে আয়।

কীভাবে আসলি, কবে আসলি তা পরে শুনবো, আগে ঘরে গিয়ে বোস। বড়দিদির বাড়ির ভেতরে যাবার আগে রিকশাওয়ালাকে ভারতের দুইটা ১০ টাকার নোট হাতে দিলাম। রিকশাওয়ালা খুব খুশি হয়ে বললেন, ‘জয়বাংলার লোক গো দিদি। তাই এতো বড় আত্মা। বীরপাড়া বাজার থেকে এখানে এসে, কেউ দুই টাকার বেশি দেয় না। আর উনি আমাকে রাস্তায় চা পান করিয়েছেন। আবার কুড়ি টাকা দিয়ে দিলেন। আমার সারাদিনের কামাই, ওনাকে দিয়েই হয়ে গেল। রিকশাওয়ালার কথা শুনে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আমার বড়দিদি বললেন, ‘আমার ভাইতো এখানকার ভাড়া জানে না, তাই তোমাকে এতো টাকা দিয়েছে। ক’দিন পর যখন সব জানাশুনা হয়ে যাবে, তখন হয়ত আর দিবে না। বুঝেশুঝেই দিবে। আমি বড়দিদির কথা শুনে মুচকি হেসে দিদির বাড়ির ভেতরে গেলাম। আর মনে মনে বলতে লাগলাম, দিদি আমরা বাংলাদেশি লোকেরা এরকমই। খরচের কাছে আমরা কখনোই হার মানি না।

চলবে….