ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

গত ২৬ মার্চ আমরা কয়েকজন ব্লগার আড্ডায় বসেছিলাম। এটা নিয়ে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম গত ২৭ মার্চ। ঐ লিখাটা ছিল কিছু ‘অকাজ’ এর কথা নিয়ে। তবে ঐ লিখার শেষে এসে বলেছিলাম ঐ আড্ডায় কিছু ‘কাজ’ এর কথা হয়েছিল, আজ লিখছি সেটা নিয়ে।

ঐ আড্ডায় আমাদের আলোচনার একটা বিষয় ছিল ব্লগে লিখালিখির বাইরে আমরা ব্লগাররা সমাজে কোন কাজ শুরু করতে পারি কিনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আমরা যারা এই ব্লগে লিখালিখি করি, তারা আমাদের কিছু সমাজ সচেতনতা থেকেই এটা করি। আমার প্রায়ই মনে হয় আমাদের এই লিখালিখির মূল উদ্দেশ্য যদি হয় সমাজে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন করা, তবে সেটা করতে আমরা বাস্তবে কতোটা এগিয়ে আসছি সেটা দেখা দরকার।

সেদিন আমাদের আলোচনায় এটা উঠে এসেছিল যে ব্লগে লিখে লিখে মানুষের চেতনাগত পরিবর্তন করার সাথে সাথে আমাদের উচিত হবে বাস্তবে একটা কমিউনিটি তৈরি করা যেটা সমাজে কিছু কাজ করতে শুরু করবে। সেই উদ্দেশ্যেই আমরা আগামী ৮ তারিখ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদে আমরা যাবো। যেটা নিয়ে এর মধ্যেই বেশ কিছু পোস্ট দেয়া হয়েছে।

আরেকটা ব্যাপার নিয়ে কথা হয়েছে সেটা হল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য কিছু অনুদান যোগাড় করার ব্যবস্থা করা। আমি আজ এই বিষয়টা নিয়েই লিখতে যাচ্ছি। আমি যখন ব্লগে প্রথম আসি, তখন দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নিয়ে কয়েকটা পোস্ট লিখা হয়েছিল। লিখেছিলেন মোঃ ইলিয়াছ চৌধুরী, নাহুয়াল মিথ, কৌশিক আহমেদ। ব্লগার এবং পাঠকদের উদ্দেশ্যে আবেদন ছিল এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হবার জন্য। কিন্তু আমি আসলেই জানি না এই ব্লগের ব্লগার এবং পাঠকদের পক্ষ থেকে কতোটা অনুদান দেয়া হয়েছে।

সেদিনকার আড্ডায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবার ভিন্নভাবে চেষ্টা করার। আমরা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না দিয়ে নিজেরা সেটা জোগাড় করবো তারপর সেটা দিয়ে কিনবো ‘স্মারক ইট’। মাত্র ১০০০০ টাকা অনুদান যোগাড় করা গেলেই কেনা যাবে একটা স্মারক ইট। এই ব্যাপারে এই ব্লগের ব্লগার মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরীর লিখা পোষ্ট একটি ইট কিনুন:: আপনার প্রিয়জন অথবা প্রিয় প্রতিষ্ঠানের নামে:: পড়লে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

এই অনুদানের ব্যাপারে ঐ পোষ্টে এবং আরো কয়েকটা পোষ্টে অনেকেরই নানা রকম বিরূপ মন্তব্য এসেছে। আমি আসলে এই তর্ক এখানে আর শুরু করতে চাই না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না শুধু জাদুঘর বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করা যাবে। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য উপাত্ত অনাগত প্রজন্মের জন্য সঠিকভাবে সংরক্ষণের কাজটি করার জন্য এরকম একটা জাদুঘরের প্রয়োজনীয়তা অসীম।

জানি আমাদের প্রচেষ্টা যুক্ত না হলেও এই জাদুঘরের কাজ থেমে থাকবে না, থেমে নেই। কিন্তু এই বড় কাজটির সাথে আমাদের একটা ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যুক্ত হলে এটা কি আমাদের জন্য একটা অসাধারন সুখের ব্যাপার হবে না? আর আমরা, ব্লগাররা কি এটা দেখে উৎসাহিত হব না যে এই ছোট কাজটি আমাদেরকে দিয়ে হওয়া মানে ব্লগে লিখালিখির বাইরে আমাদেরকে দিয়ে কিছু কাজ হতে শুরু হয়েছে? এই কাজের আত্মবিশ্বাস কি আমাদেরকে পরে আরও বড় কাজ করার সাহস ও শক্তি দেবে না?

আসুন, ন্যূনতম একটা ইটের লক্ষ্য নিয়ে আমরা শুরু করি। আগামীকাল (৮ এপ্রিল) যে ব্লগারদের সাথে দেখা হবে তাঁরা আমার কাছে সরাসরি তাঁদের অনুদান জমা দিতে পারেন। আর যেসব ব্লগার ওইদিন আসবেন না, বা ঢাকার বাইরে থাকেন, বা বিদেশে থাকেন তাঁরা কীভাবে অংশগ্রহণ করবেন সে ব্যাপারে আমি এই পোষ্টের মধ্যেই খুব দ্রুত জানাবো

কাজটা করার পরিকল্পনা আসার সাথে সাথে একটা ঝুঁকির কথা মাথায় এলো। বিষয়টার সাথে যেহেতু আর্থিক ব্যাপার জড়িত, এতে পুরোপুরি স্বচ্ছতা না থাকলে এটা নানা রকম সন্দেহ তৈরি করতে পারে। তাই এটা কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেই ব্যাপারে সবার মতামত চাইছি। আপাতত আমার পরিকল্পনা হল, আমরা যে যতো টাকা দেবার সিদ্ধান্ত নেব সেই পরিমাণটা জানিয়ে এই পোস্টে মন্তব্য করবো। আর টাকাটা হাতে পেয়ে আমি সেটা নিশ্চিত করব। এভাবে মোট প্রাপ্ত টাকার পরিমাণটা আমি ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে যাবো, প্রত্যেকের নাম সহ।

যদি আমরা ব্যাপারটায় সফল হই তবে এই কাজে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে যাওয়া এবং এই সংক্রান্ত সব কর্মকাণ্ডের ছবি তুলে রাখা হবে। পরে যাবতীয় সব ছবি এবং ডকুমেন্ট নিয়ে আমি আরেকটা বিস্তারিত পোস্ট দেব। আশা করি এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

আমি আশা করি, বিশ্বাস করি এই ব্যাপারে আমরা এগিয়ে আসবো। এই ব্লগের ব্লগারদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম একটা স্মারক ইট আমরা কিনতে পারবো। অথবা আমাদেরকে অবাক করে দিয়ে ইটের সংখ্যাটা আরো বেশী হবে। ন্যূনতম একটা ইট, মাত্র ১০০০০ টাকা হয়ে যাক আমাদের নতুন একটা দীর্ঘ পদযাত্রার শুরু। ভীষণ মনে পড়ছে সেই প্রবাদটা “সহস্র মাইলের পদযাত্রাও শুরু হয় একটিমাত্র পদক্ষেপ দিয়ে”।

পূনশ্চঃ এর মধ্যেই কয়েকজন ব্লগার এতে অংশগ্রহণ করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন নুরুন্নাহার শিরীন, আইরিন সুলতানা, কৌশিক আহমেদ, মঞ্জুর মোর্শেদ, জাহেদ-উর-রহমান। তাদের অনুদানের পরিমাণ পরবর্তীতে মন্তব্যে জানানো হবে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নিয়ে ব্লগারদের পূর্ববর্তী আলোচনা সমূহ:

ব্লগার মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধূরী:
* একটি ইট কিনুন:: আপনার প্রিয়জন অথবা প্রিয় প্রতিষ্ঠানের নামে::
* মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পাইলিং ও নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে…
* মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ তহবিল সংগ্রহ বিষয়ক আপডেট
* নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলো
* আজ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
* মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান
* নির্মিতব্য নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আউটলুক
* নির্মিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর- আপনিও অংশীদার হউন
* “নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ তহবিল সংগ্রহ” এর উপর আলোচনা সভা ও দাতাদের কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ
* নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের অনুদান গ্রহণ অনুষ্ঠানে ট্রাস্টি আসাদুজ্জামান নূর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা এইচ.টি.ইমাম ও ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী
* নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মানের জন্য অনুদান গ্রহণ
* সবার সহযোগিতায় নির্মিত হবে নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর- আপনিও এগিয়ে আসুন

ব্লগার নাহুয়াল মিথ
* দেবেন মাত্র ৪টি টাকা?

ব্লগার হানী
* আসুন সবার সহযোগিতায় গড়ে তুলি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

ব্লগার কৌশিক আহমেদ
* আজকের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অনুষ্ঠান
* রাজাকার মন্ত্রী হয়ে গেলো, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর হলো না এখনও!
* মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া তৎপরতা বাড়াতে ব্লগারদের আড্ডা
* মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর গড়ে উঠুক আমাদের উপার্জিত অর্থে..শ্রমে…চেষ্টায়..