ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

যারা আমার দেশের পতাকা পোড়ালো, জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে চিকিসৎকদের হত্যা করলো, প্রগতিশীলদের বিরুদ্ধে ও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জেনোসাইড ঘটালো, ধর্ম পরিচয়েও গণহত্যা চালালো যে ২৫ মার্চ রাতে, সেই নিকষ কালো রাতের কথা বাংলাদেশের জনগণ, সারা দুনিয়ার মানুষ ভুলে যাবে কি করে! ধর্ম, জাতিসত্ত্বার নামে নৃশংসতার শিকার হয়েছে এদেশের নিরীহ মানুষ। সেই রাতে সার্বভৌমত্বের নামে সকল নিস্তব্ধতা ভেঙে সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ কায়েম করেছে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী।

২৫ মার্চে হানাদার বাহিনীর হিংস্রতা ছিল শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ। যখন শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ এই বাংলার মাটিতে ঘটে গেছে, তখন সেই বর্বর হত্যাযজ্ঞ জাতিসংঘ দেখেছে। জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো কারণ ১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন গৃহিত হয়েছে তাই। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে আমাদের কষ্ট হয়!

গণহত্যা, সত্য এবং সুবিচার নিয়ে ২০০৮ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষনায় গণহত্যা সম্পর্কে   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, আর্টিকেল দুই অনুযায়ী, জোনোসাইড হচ্ছে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কোনো জাতিসত্ত্বা, গোষ্ঠী, গোত্র বা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ধ্বংসে কোনো গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা, তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতিসাধন, জীবনমানের প্রতি আঘাত ও শারীরিক ক্ষতিসাধন, জন্মদান বাধাগ্রস্ত করা এবং শিশুদের অন্য গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে ‘দৈনিক সংগ্রাম’ একেকদিন সংবাদ ছাপাতো ‘স্বাধীন বাংলা ইহুদী ষড়যন্ত্র’, ‘মুক্তিযোদ্ধা নির্মূলের জন্য আরো উন্নত অস্ত্র দাও’, ‘মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের পাকিস্তানে জায়গা হবে না’, ‘পাকিস্তানের অস্তিত্ত্বে যারা বিশ্বাস করে না, তাদের এদেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে’, ‘স্বাধীনতার সমর্থক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করতে হবে’, ‘বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে মুক্তিযোদ্ধা খোঁজ কর’। ‘অফিস-আদালত থেকে মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের বের করে দাও’। এসব বক্তব্যের দালিলিক প্রমাণ বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারে প্রমাণও হয়ে গেছে বাংলাদেশে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, যুদ্ধাপরাধ হয়েছে।

যখন ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণ ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ অর্থাৎ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় জাতিসংঘেরই অন্য এক গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ‘ইউনেস্কো’ থেকে তখন স্পষ্টত স্বীকার করে নেয়া হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বৈধতাকে।এমন পরিস্হিতিতে অস্বীকৃতি জানানোর কোনো পথ খোলা থাকে না যে, বাংলাদেশের নিরীহ জনগণের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৫ মার্চের নির্মম গণহত্যাযজ্ঞের কোনো ঘটনা ঘটেনি, যে গণহত্যার দলিল দস্তাবেজ সবই রয়েছে। তাহলে জাতিসংঘের এতো সময় লাগছে কেন ২৫ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ হিসেবে মেনে নিতে?

নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রাখে এমন দেশও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছে এবং তাঁদের ইন্ধনে এদেশের নিরীহ জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে,গণহত্যা চালানো হয়েছে বলে জাতিসংঘের এই প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়া উচিত না।

আমরা বাংলাদেশের জনগণ যখন ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন করছি তখনও জাতিসংঘ এই দিবসকে ‘আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে স্বীকার করেনি। এতে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের অস্বস্তি তীব্র হয়েছে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের স্মারক হয়ে আছে বাংলাদেশ। এই দেশে সংঘটিত গণহত্যাযজ্ঞের চিত্র জাতিসংঘের দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারে না। আমরা মনে করি ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি ও সারা বিশ্বে ঘটে যাওয়া যত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটানো হয়েছে, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ করা হয়েছে এবং হচ্ছে জাতিসংঘ এমন সকল অসহায় জনগণকে অবজ্ঞা করতে পারে না।

জাতীয় গণহত্যা দিবসকে ‘আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে স্বীকার ও স্বীকৃতি দিন

জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান- একাত্তরের গণহত্যাকে স্বীকার করুন

আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালনের আহ্বান

আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালনের আবেদন